
চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদীর তীর দখলমুক্তে বড় অভিযান, উচ্ছেদ হবে ৭০০ অবৈধ স্থাপনা


চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পুরানবাজার মৌলভী ঘাট থেকে ইচলী ঘাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় থাকা প্রায় ৭০০ অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, দ্রুতই এ অভিযান শুরু করা হবে। এ জন্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০ দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, ডাকাতিয়া নদীর তীরবর্তী অধিকাংশ স্থাপনারই বিআইডব্লিউটিএর কোনো ইজারা নেই। দীর্ঘদিন ধরে নদীর জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযানে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য অবকাঠামো অপসারণ করা হবে।


তবে নদীতীরের সব স্থাপনাকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফোরশোর ল্যান্ড ব্যবহারের জন্য ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রাইস মিল, টেক্সটাইল মিল ও ডকইয়ার্ড রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এসব লাইসেন্স নদীর জমির ইজারা নয়, শুধু নির্দিষ্ট ব্যবহারের অনুমতি।
নদীতীরের এসব স্থাপনার মধ্যে নৌযান মেরামতের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ডকইয়ার্ডে নৌযান মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলে আসছে। উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে অনেক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাদের দাবি, নদী রক্ষার পাশাপাশি পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর তীর দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দখলমুক্ত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশ ও নৌ চলাচলের পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
তবে উচ্ছেদের পর যাতে আবার দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























