
চাঁদপুর শহরে অবৈধ ও অনুমোদনহীন বিদেশি কসমেটিকস ব্যবসা, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা


চাঁদপুর শহরে বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদন ছাড়াই বিদেশি কসমেটিকস বিক্রি এবং ফেসবুকে ভুয়া প্রসাধনী পরামর্শ দেওয়ার অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরানের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এই তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি জানান, শহরের একটি সুপরিচিত কসমেটিকস দোকানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে থরে থরে সাজানো রয়েছে হাজার হাজার বিদেশি প্রসাধন সামগ্রী। অথচ দোকান মালিক ওই পণ্যগুলো কোথা থেকে ক্রয় করেছেন, তার স্বপক্ষে কোনো বৈধ ক্যাশমেমো বা ক্রয়ের ডকুমেন্ট দেখাতে পারেননি। এমনকি দোকানে থাকা হাজার হাজার পণ্যের মধ্যে একটি পণ্যেরও ক্রয়ের বৈধ রসিদ মেলেনি।


তিনি আরো জানান, বিক্রয়কৃত বিদেশি প্রসাধন সামগ্রীর গায়ে কোনো প্রকার আমদানিকারকের স্টিকার, বিএসটিআই-এর অনুমোদন বা সিল পাওয়া যায়নি। দোকান মালিকের বাসায় অভিযান চালিয়েও একই ধরনের অবৈধ ও অনুমোদনহীন পণ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। এগুলো লাগেজ পার্টি বা ঢাকার চকবাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এর সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।
এই কর্মকর্তা জানান, কোনো ধরনের চর্মরোগ বা স্কিন কেয়ার বিশেষজ্ঞের অফিশিয়াল ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তি ফেসবুকে নিয়মিত লাইভ ও বিভিন্ন ভিডিওর মাধ্যমে স্কিন কেয়ার নিয়ে মনগড়া পরামর্শ এবং অতিরিক্ত বিভ্রান্তিকর প্রমোশনাল বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছেন।
ল্যাব টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ ও কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে ভোক্তা অধিকার জানান, প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ও পণ্যের মান পরীক্ষার জন্য দোকান থেকে কিছু প্রসাধন সামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে পণ্যগুলো মানবদেহের জন্য নিরাপদ কি না তা যাচাই করা হবে এবং তার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এছাড়া অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়েছে এবং এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। সার্বিক অপরাধ বিবেচনায় আজ মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বা ব্যত্যয় ঘটলে আইনের সর্বোচ্চ কঠোর প্রয়োগ করা হবে।


























