
হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক বিকাশ চক্রবর্তীর ‘ছারপোকা’ উপন্যাসে সমাজ ও মানুষের অন্তর্জগত


মানুষের জীবনের অদৃশ্য যন্ত্রণা, বিবেক, বিশ্বাস, স্বার্থপরতা ও সামাজিক বাস্তবতার নানা দিককে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান বিকাশ চক্রবর্তীর উপন্যাস ‘ছারপোকা’ পাঠকের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
নরসিংদী জেলার সন্তান বিকাশ চক্রবর্তী। তার পিতা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী এবং মাতা সমিতা রানি চক্রবর্তী। তার স্থায়ী ঠিকানা ৯২/১, পশ্চিম কান্দাপাড়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, নরসিংদী সদর, নরসিংদী। বর্তমানে তিনি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লেখকের পরিচিতি থেকে জানা যায়, তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চার সঙ্গেও যুক্ত। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক বাস্তবতা তার লেখায় উঠে এসেছে।


‘ছারপোকা’ উপন্যাসে একজন শিক্ষক চরিত্রকে কেন্দ্র করে মানুষের মন, সমাজ ও রাজনীতির নানা বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন চিন্তাশীল ও নীতিবোধসম্পন্ন শিক্ষক। বই, পরিবার ও শিক্ষার্থীদের ঘিরেই তার জীবন। তবে সময়ের সঙ্গে নানা সামাজিক বাস্তবতা এবং মানুষের আচরণ তাকে ভাবিয়ে তোলে।
উপন্যাসটির নাম ‘ছারপোকা’ হলেও এটি কেবল একটি কীটপতঙ্গকে বোঝায় না। লেখকের প্রতীকী উপস্থাপনায় ‘ছারপোকা’ মানুষের ভেতরে জন্ম নেওয়া এমন কিছু মানসিকতার প্রতীক, যা নিঃশব্দে মানুষের মূল্যবোধ, বিবেক ও সমাজব্যবস্থাকে ক্ষয় করে।
উপন্যাসটিতে ব্যক্তিস্বার্থ, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, মানুষের বিশ্বাসকে ব্যবহার এবং সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক সাহিত্যিক আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। তবে লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা মতাদর্শকে উদ্দেশ্য করে লেখা নয়; বরং সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্বকে পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে একটি সাহিত্যিক আখ্যান নির্মাণের প্রয়াস।
লেখক মনে করেন, সাহিত্য মানুষকে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করতে শেখায় এবং নিজের ভেতরের দিকে তাকানোর সুযোগ তৈরি করে। সেই ভাবনা থেকেই ‘ছারপোকা’ উপন্যাসে মানুষের অন্তর্জগত ও সমাজের অদৃশ্য বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চা দুই ক্ষেত্রেই বিকাশ চক্রবর্তীর পথচলা তার সৃজনশীল মনন ও সমাজ পর্যবেক্ষণের পরিচয় বহন করে। ‘ছারপোকা’ তার সাহিত্যচর্চার একটি সংযোজন হিসেবে পাঠকের সামনে এসেছে, যেখানে সমাজের দৃশ্যমান বাস্তবতার পাশাপাশি মানুষের মনের অদৃশ্য দ্বন্দ্ব ও মূল্যবোধের ক্ষয়কে প্রতীকী ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে।


























