
মতলব উত্তরে ট্রান্সফরমার চুরির মালামাল উদ্ধার, ভাঙারি ব্যবসায়ী টানা আনোয়ার আটক


মতলব উত্তর উপজেলায় একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় টানা আনোয়ার নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি পিকআপভ্যান জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর থানার এএসআই রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ এবং পল্লী বিদ্যুৎ মতলব উত্তর জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর বালুঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপভ্যানসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়। পরে পিকআপভ্যান ও মালামাল থানায় নেওয়া হয়।


পুলিশ জানায়, অভিযানের শুরুতে ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে টানা আনোয়ারকে আটক করা হয়। পরে চুরি করা মালামাল একটি পিকআপভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। স্থানীয় সোর্স, পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পিকআপটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পিকআপভ্যানটি তল্লাশি করে ট্রান্সফরমারের ভেতরে কয়েল তৈরিতে ব্যবহৃত তামার তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা এসব মালামাল ট্রান্সফরমারের অংশ হিসেবে শনাক্ত করেন।
মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান জানান, ধারাবাহিক ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির সঙ্গে চোরচক্রের আরও কারা জড়িত এবং চুরি করা মালামাল কোথায় বিক্রি করা হচ্ছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম এমডি ওয়াহিদুজ্জামান জানান, গত জুলাই থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলায় মোট ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ট্রান্সফরমারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
চোরেরা ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার তারসহ মূল্যবান সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি গ্রাহকরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তিনি বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কোথাও হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে লোডশেডিং মনে না করে স্থানীয়দের ট্রান্সফরমারের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, ধারাবাহিক ট্রান্সফরমার চুরির পেছনে থাকা মূল চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হলে এ ধরনের চুরি অনেকটাই বন্ধ হবে।


























