
শাহরাস্তির খামপাড়ে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ


একদিকে কাদা-পানি আর পিচ্ছিল পথ, অন্যদিকে সড়কের পাশ ভেঙে পুকুরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা এভাবেই চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের খামপাড় থেকে বিজয়পুর যাওয়ার গ্রামীণ সড়কে চলছে মানুষের দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি এখন অনেকটাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি রায়শ্রী উত্তর ও রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ হলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর সংস্কার হয়নি। বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ কাদায় পরিণত হয়। আল আরাফাহ জামে মসজিদ বাড়ির সামনে সড়কের পাশে একটি গাছ উপড়ে পুকুরে পড়ে যাওয়ায় ওই অংশে ভাঙনও সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় সড়কের আরও অংশ পুকুরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক কিলোমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের সড়কটির বিভিন্ন অংশে মাটি সরে গিয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কাদায় পরিণত হওয়ায় হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুল-মাদরাসায় যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় চা দোকানি মো. ইয়াসিন বলেন, রাস্তাটি ছোট হলেও কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে রাস্তাটি খারাপ হয়ে যায়। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
খামপাড় গ্রামের বাসিন্দা রাজ্জাক হোসেন খোকন বলেন, আশপাশের তিন-চার গ্রামের শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও হাফেজিয়া মাদরাসায় যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করে। বর্ষাকালে তাদের কাদা মাড়িয়ে যেতে হয়। অনেক সময় পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। গত বছরের ৯ অক্টোবর খামপাড় গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা দিদার হোসেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে খামপাড় কার্লভাট থেকে খামপাড় আল আরাফাহ জামে মসজিদসংলগ্ন অংশ পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচলের জন্য ৬০০ ফুট কাঁচা রাস্তা ইটের সলিং/পাকা করার অনুরোধ জানানো হয়।
আবেদনে মাওলানা দিদার হোসেন উল্লেখ করেন, ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ, যানবাহন, সাধারণ পথচারী, স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থী ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চলাচল করেন। কিন্তু সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে আবেদন করার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সড়কটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. খোরশেদ আলম বলেন, ইতোপূর্বে পাওয়া বরাদ্দে রাস্তাটির আংশিক কাজ করা হয়েছে। বাকি অংশের কাজের জন্যও প্রয়োজন রয়েছে। নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য চাহিদা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বরাদ্দের অপেক্ষায় দীর্ঘদিন সড়কটি ফেলে না রেখে অন্তত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনপ্রবণ ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কার করা হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কটির ইটের সলিং বা পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




























