
ফরিদগঞ্জে যুবককে মারধরের ঘটনায় নানীর মৃত্যু


ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের নন্দী বাড়িতে যুবককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার নানীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯:৩০ থেকে ১০:৩০টার মধ্যে নুরপুর গ্রামের নন্দী বাড়ির রিফাত হোসেন ওরফে সিয়াম (১৯), পিতা দেলোয়ার হোসেন, বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলেন। এ সময় একই এলাকার প্রতিবেশী মোহাম্মদ নাঈম (১৭), পিতা মোহাম্মদ নাসির, মোবাইল ফোনে তার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলেন।
এসময় রিফাত হোসেন সিয়াম নাঈমকে ওই ভিডিও ও ছবি তার মা এবং নানীকে না দেখাতে এবং ফেসবুকে প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু নাঈম তা না মেনে ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে দেওয়ার কথা জানালে দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।


অভিযোগ রয়েছে, তখন নাঈমের ভাই নাদিম, তার চাচা ও চাচাতো ভাইসহ কয়েকজন একত্র হয়ে সিয়ামকে মারধর করে। সিয়ামের চিৎকার শুনে স্থানীয় মুরুব্বী আবুল কালাম এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
এদিকে, ছেলেকে মারধরের খবর শুনে সিয়ামের মা রাবিয়া আক্তার চিৎকার শুরু করেন। একই সময় সিয়ামের নানী আফিয়া বেগম (৭০), স্বামী আরশাদ পাটোয়ারী, ঘরের ভিতরে অসুস্থ হয়ে পড়ে যান এবং অজ্ঞান হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত স্থানীয় মুন্সিরহাট বাজারে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার সকাল আনুমানিক ৭:১৫ টায় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, আফিয়া বেগমের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তিনি নাতির মৃত্যুর গুজব শুনে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। যদিও নাতি রিফাত হোসেন সিয়াম মারা যাননি, তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত্যু নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।








