
ওমানে ফরিদগঞ্জের রাব্বির রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবী হত্যা
Link Copied Successfully!

গেলো ৬ জুলাই রোববার প্রবাসে মৃত্যু হয় ওমান প্রবাসী রাব্বি (২৭)র। সে ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী গ্রামের বাবুর বাড়ির বাসিন্দা মিজানুর রহমান কালু ও মিসেস মায়া আক্তার দম্পতির একমাত্র পুত্র সন্তান।
গত ৩ মাস পূর্বে প্রবাসে যাওয়া রাব্বির ৬ জুলাই রোববার ওমানে রহস্যজনক মৃত্যু হয়। শনিবার (১২ জুলাই) রাতে মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়। রোববার (১৩ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত রাব্বির বাবা মিজানুর রহমান কালু থানাসহ বিভিন্ন স্থানে বিচারের জন্য ঘুরে লাশ দাফনের ব্যবস্থা নিয়েছেন।
রাব্বির বাবা মিজানুর রহমান কালু বলেন, আমার ছেলে মারা যায়নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ৩ মাস পূর্বে মো. রাব্বি জীবিকার তাগিদে তার মামা শ্বশুর জহিরের দেওয়া ভিসায় শ্রমিক হিসেবে ওমানে পাড়ি জমায়। সে বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই দেশে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। এ কলহের জের ধরে ওমানে রাব্বি একাধিকবার তার মামা শ্বশুর জহির গংদের দ্বারা মারধরের শিকার হয়। গত ৩ জুলাই ওমানে কর্মরত অবস্থায় রাব্বিকে তার মামা শ্বশুর জহির আবারও মারধর করে।
বিষয়টি স্থানীয় কফিলকে জানালে তিনি দেখবেন বলে জানান। এরই মধ্যে গত ৬ জুলাই সকালে আমার পুত্রবধূ নুপুর আক্তার ভাবনাকে তার আরেক মামা শরীফ হোসেন নিয়ে যায় এবং ওই দিনই দুপুুরে ওমানে থাকা জহির হোসেন আমার ছেলে রাব্বী আত্মহত্যা করেছে বলে খবর দেয়।
রাব্বির বাবা বলেন, ছেলের মামা শ্বশুর ওমানে থাকায় তাদের ছায়ায় থেকে ভাল থাকবে এই আশায় সংসারে অর্থনৈতিক স্বস্তি নিয়ে আসার জন্য একামাত্র পুত্রকে প্রবাসে পাঠাই। কিন্তু রক্ষকই ভক্ষক হয়ে জীবিত ছেলেকে লাশ বানিয়ে বাড়িতে পাঠালো। একটি পরিকল্পিত হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে ক্ষ্যান্ত হয়নি তারা। আমার পুত্রবধূকে কৌশলে বাড়ি থেকে সরিয়ে নিয়ে পরে আমাদেরকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানায়। আমার ছেলের মরদেহ বাড়ি আসলেও পুত্রবধূ ও তার বাপের বাড়ির কেউ আসেনি। তার মানে একথা নিশ্চিত তারা আমার ছেলের মৃত্যুর সাথে জড়িত। আমি আমার ছেলের হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।
নিহত রাব্বির স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর ৩ বছর পূর্বে কড়ৈতলী গ্রামের মুদি দোকানী মিজানুর রহমান কালুর ছেলে ও একই এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে নুপুর আক্তার ভাবনার সাথে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১০ মাস বয়সী নুহান নামে একটি সন্তান রয়েছে।
প্রবাসে রাব্বীর ওপর অমানবিক নির্যাতনের কথা জানান রাব্বীর চাচাতো ভাই জসিমসহ আশপাশের লোকজন।
এদিকে রাব্বির মামা শ্বশুর মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, রাব্বির আত্মহত্যার বিষয়টি ওমানের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। আমার ভাগ্নি নুপুর আক্তার ভাবনাকে মারধর করার চেষ্টা করলে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ অন্যান্য মানুষের উপস্থিতিতে ভাগ্নিকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। রাব্বির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে রাব্বির পরিবার মারধর করেছে বলে উল্টো অভিযোগ করেন তিনি।
প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম জিতু জানান, রাব্বীর মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি, বিষয়টি দুঃখজনক। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করছি।








