
ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির হামলায় প্রাণ গেল ৬ জনের


লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনের বন্দরশহর মোখায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের বিমান বাহিনী। এতে ছয়জন নিহত ও আরও আটজন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক বলে জানা গেছে।
ইয়েমেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাবা নিউজ এজেন্সি মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে মোখায় বোমা বর্ষণ করেছে সৌদি বিমান বাহিনী। এতে ৬ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। নিহত এবং আহতরা সবাই বেসামরিক। আহতদের মধ্যে ২ জন শিশু এবং একজন নারী আছেন।”


গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান জোরদার করেছে সৌদি আরব। ইরানের মদতপুষ্ট বলে পরিচিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথির নেতারা দাবি করেছেন, গত কয়েক দিনে হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা এবং গোষ্ঠীটির সামরিক ও লজিস্টিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সৌদি বিমান হামলা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
হুথি হাইকমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে সৌদি বিমান বাহিনী প্রায় ৩০০টি অভিযান পরিচালনা করেছে।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে হুথি বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানটির ভিডিও প্রকাশ করে গোষ্ঠীটি। একই সময়ে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের বিভিন্ন স্থাপনাতেও কয়েক দফা হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। এসব হামলায় রিয়াদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের বিভিন্ন স্থাপনায় কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা।
এরপর ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে হুথি যোদ্ধারা। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণকে সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাব এল মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই নৌপথ ব্যবহার করে সৌদি আরব এত দিন তাদের জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ রপ্তানি করে আসছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।




























