
ফরিদগঞ্জে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার ৩১ মে বিকেলে উপজেলা পরিষদ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে যুবদল নেতাসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির ব্যানারে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ। প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ এম. এ. হান্নান।


অনুষ্ঠান চলাকালে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী এক পক্ষের সমর্থকদের সঙ্গে এম. এ. হান্নানের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান রনি সহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন হারুনুর রশীদের সমর্থকরা অনুষ্ঠান চলাকালে উপজেলা পরিষদ গেট এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় কয়েকটি সাউন্ড ককটেলের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংসদ সদস্য এম. এ. হান্নান অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশের উপস্থিতেই সন্ত্রাসীরা আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছিল। কর্মসূচির বাইরে সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।”
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।








