বিএনপির মহাসচিবের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আরেকটি এক–এগারো সরকার গঠনের ইঙ্গিত: নাহিদ ইসলাম

পপুলার বিডিনিউজ ডেস্ক চাঁদপুর
আপডেটঃ জানুয়ারি ২৩, ২০২৫ | ৮:৪৩
Link Copied Successfully!

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মূলত আরেকটি এক–এগারো সরকার গঠনের ইঙ্গিত বহন করে—এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বিএনপি কয়েক দিন আগে ‘মাইনাস টুর’ আলোচনা করলেও এখন ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম করার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের নামে আরেকটি এক-এগারো সরকারের প্রস্তাব করছে। এ ধরনের পরিকল্পনা গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে এবং ছাত্র-জনতা কোনোভাবেই এটা মেনে নেবে না। এটা বিএনপির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এর আগে গত মঙ্গলবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যদি অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ণ নিরপেক্ষতা পালন করে, তাহলেই তারা নির্বাচন কন্ডাক্ট (পরিচালনা) করা পর্যন্ত থাকবে। তা না হলে তো নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে।’

বিএনপির মহাসচিবের ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখা স্ট্যাটাসে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ফেসবুকে বলেছেন, ‘ছাত্র এবং অভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে মাইনাস করার পরিকল্পনা ৫ আগস্ট থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট যখন ছাত্র-জনতা রাজপথে লড়াই করছে, পুলিশের গুলি অব্যাহত রয়েছে, তখন আমাদের আপসকামী অনেক জাতীয় নেতা ক্যান্টনমেন্টে জনগণকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন (অনেকে ছাত্রদের কথাও বলেছেন সেখানে)। আমরা ৩ আগস্ট থেকে বলে আসছি, আমরা কোনো প্রকারের সেনাশাসন বা জরুরি অবস্থা মেনে নেব না। আমাদেরকে বারবার ক্যান্টনমেন্টে যেতে বলা হলেও আমরা যেতে অস্বীকার করি। শেষ পর্যন্ত বঙ্গভবনে আলোচনা ও বার্গেনিংয়ের (দর–কষাকষি) মাধ্যমে অধ্যাপক ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।’

বিজ্ঞাপন

নাহিদ লেখেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে একটা জাতীয় সরকার। জাতীয় সরকার হলে ছাত্রদের হয়তো সরকারে আসার প্রয়োজন হতো না। জাতীয় সরকার অনেক দিন স্থায়ী হবে—এই বিবেচনায় বিএনপি জাতীয় সরকারে রাজি হয়নি। কিন্তু অভ্যুত্থানের পরেই দেশে জাতীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি ছিল। অথচ বিএনপি জাতীয় সরকারের কথা বলছে সামনের নির্বাচনের পরে। ছাত্ররাই এই সরকার এবং বিদ্যমান বাস্তবতার একমাত্র ফ্যাক্টর, যেটা এক-এগারোর সরকার থেকে বর্তমান সরকারকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করে। বিএনপি কয়েক দিন আগে ‘‘মাইনাস টুর’’ আলোচনা করলেও এখন ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম করার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের নামে আরেকটি এক–এগারো সরকারের প্রস্তাবনা করছে। এ ধরনের পরিকল্পনা গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে এবং ছাত্র-জনতা কোনোভাবেই এটা মেনে নেবে না। আমি মনে করি, এটা বিএনপির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র।’

উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় সরকার না হলেও সরকারে আন্দোলনের সব পক্ষেরই অংশীদারত্ব রয়েছে এবং সব পক্ষই নানা সুবিধা ভোগ করছে। সরকার গঠনের আগেই ৬ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এবং পুলিশের আগের মহাপরিদর্শক নিয়োগ হয়েছিল, যাঁরা মূলত বিএনপির লোক। এ রকমভাবে সরকারের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত নানা স্তরে বিএনপিপন্থী লোকজন রয়েছে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতার কথা বললে এই বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে। রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন, সংস্কার, নতুন সংবিধান, জুলাই ঘোষণা—সব ইস্যুতেই বিএনপি বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অথচ এগুলোর কোনোটাই ছাত্রদের দলীয় কোনো দাবি ছিল না। কিন্তু দেশের স্থিতিশীলতা, বৃহত্তর স্বার্থ এবং জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার জন্য ছাত্ররা বারবার তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে গণতন্ত্রবিরোধী ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাবিরোধী কোনো পরিকল্পনা হলে সেখানে আমরা বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব।’

নাহিদ ইসলাম আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ বিষয়ে ভারতের প্রধান দলগুলোর মধ্যে ঐক্য সম্ভব হয়েছে, অথচ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বিষয়ে আমরা ঐক্য করতে পারিনি এত হত্যা এবং অপরাধের পরেও। হায় এই “জাতীয় ঐক্য” লইয়া আমরা কী রাষ্ট্র বানাব! বাংলাদেশকে দুর্বল করা সহজ, কারণ বাংলাদেশকে সহজেই বিভাজিত করা যায়। এ দেশের বড় বড় লোকেরা অল্প মূল্যে বিক্রি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। আমি মনে করি না, সমগ্র বিএনপি এই অবস্থান (মির্জা ফখরুলের বক্তব্য) গ্রহণ করে। বরং বিএনপির কর্মী–সমর্থকদের বড় অংশই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন চায়। বিএনপির দেশপ্রেমিক ও ত্যাগী নেতৃত্বকে আহবান করব, ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে না গিয়ে ছাত্র-জনতার সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য ও সংহতির পথ বেছে নিন।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব আরও বলেছিলেন, ‘(সরকারের) নিরপেক্ষতার প্রশ্ন আসতে পারে। কেননা, এখানে আমরা লক্ষ করছি যে ছাত্ররা একটা রাজনৈতিক দল তৈরি করার কথা চিন্তা করছেন। সেখানে যদি ছাত্রদের প্রতিনিধি এই সরকারে থাকে, তাহলে তো নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না। ওইটা হচ্ছে, সম্ভাব্য কথা। কিন্তু যদি তারা মনে করে যে (সরকারে) থেকেই তারা নির্বাচন করবে, তাহলে তো রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে না।’

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
হাজীগঞ্জে প্রাইভেটকারের চাপায় মক্তবে যাওয়ার পথে শিশুর মৃত্যু সৌদি আরবের তায়েফ থেকে ৩ দিন ধরে নিখোঁজ হাজীগঞ্জের আরিফ ডিজিটাল প্রযুক্তি ও এআই কাজে লাগিয়ে চাঁদপুরের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার আহ্বান চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ কচুয়ায় হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর মামলায় ৪ আসামির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাঁদপুরের অন্তত একজন ছেলে ও একজন মেয়েকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেখতে চাই: পুলিশ সুপার মাদককে না, খেলাধুলাকে হ্যাঁ: শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ শাহরাস্তিতে ৪৫ কিশোর আটক, পরে দেয়া হলো অভিভাবকের জিম্মায় মতলবে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৯০ চাঁদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৭০ কিশোর আটক, পরে অভিভাবকের জিম্মায় মুক্ত রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেলেন মতলব সার্কেলের এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীব উচ্চ শিক্ষার্থে লন্ডনে গেলেন মমিনুল হক এমপি পুত্র তামিম চাঁদা না পেয়ে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর নিউইয়র্ক সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মতলব উত্তরে বিতর্কিত জমিতে গণকবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ, এলাকাবাসীর আপত্তি হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় চাঁদপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বড়স্টেশন কমিউনিটির শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় চাঁদপুর নূরুল কুরআন মাদরাসার ছাত্র আবু সাঈদের বিভাগে প্রথম মতলব দক্ষিণে কম্বোবাজার ডিলার নিয়োগ ও কার্যক্রমের শুভ-উদ্বোধন ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১০৬৪ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৩২