মতলব উত্তরে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার বেত ও বাঁশ শিল্প

Reporter
সুমন আহমেদ
আপডেটঃ জুন ৩, ২০২৩ | ৭:১১
Link Copied Successfully!
মতলব উত্তরে গ্রামীণ জনপদে একসময় বাঁশঝাড় ছিল না এমনটা কল্পনাও করা যেতো না। যেখানে গ্রাম সেখানে বাঁশঝাড় এমনটিই ছিল স্বাভাবিক। বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় বেত বনের ঐতিহ্য গ্রাম বাংলার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বর্তমানে জনজীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প। এক সময় গ্রামীণ জনপদে বাংলার ঘরে ঘরে তৈরি হতো বাঁশ ও বেতের হাজারো পণ্য সামগ্রী। ঘরের কাছের ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ কেটে গৃহিণীরা তৈরী করতেন হরেক রকম জিনিস। অনেকে এ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। দরিদ্র পরিবারের অনেকের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিলো এগুলো। কিন্তু আজ ক’টি গ্রামে এ হস্তশিল্পটি উপার্জনের পেশা হিসেবে বেঁচে আছে তা ভাবনার বিষয়।
এ শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার আমলের পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন বা হচ্ছেন। আগে মতলব উত্তরে বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসের কদর ছিল। চেয়ার, টেবিল, বইয়ের সেল্ফ, মোড়া, কুলা, ঝুড়ি, ডোল, চাটাই থেকে শুরু করে এমনকি ড্রইং রুমের আসবাবপত্র তৈরিতেও বাঁশ ও বেত প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হতো। এ ছাড়া মাছ ধরার পলো, হাঁস, মুরগীর খাঁচা, শিশুদের ঘুম পাড়ানোর দোলনা এখনো গ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। একসময় চাঁদপুর মতলবের বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিপুল পরিমাণে এসব বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরী হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হয়ে যেতো। এখন সচরাচর গ্রামীণ উৎসব বা মেলাতেও বাঁশ ও বেতজাত শিল্পীদের তৈরি উন্নতমানের খোল, চাটাই, খালুই, ধামা, দোয়াড়, আড়ি, টোনা, আড়, হাপটা, মোড়া, বুকসেলফ চোখে পড়ে খুব কম।
যেখানে তালপাতার হাত পাখারই কদর নেই, সেখানে অন্যগুলো তো পরের কথা। প্রান্তিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সুবিধা যেমন হাত পাখার চাহিদা কমিয়েছে তেমনি মৎস্য শিকার, চাষাবাদ, ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র সকল ক্ষেত্রেই কমেছে বাঁশ আর বেত জাতীয় হস্তশিল্পের কদর। প্রকৃতপক্ষে বাঁশ বেতের স্থান অনেকটাই প্লাস্টিক সামগ্রী দখল করে নিয়েছে। তাছাড়া এখন বাঁশ ও বেতের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এর দামও বেড়ে গেছে। ফলে বাঁশ ও বেতের সামগ্রীর ব্যয়ও বেশি হচ্ছে। সৌখিন মানুষ ঘরে বাঙালির ঐতিহ্য প্রদর্শনের জন্য বাঁশ বেতের সামগ্রী বেশি দাম দিয়ে কিনলেও মূলত ব্যবহারকারীরা বেশি দাম দিতে চান না।
স্বল্প আয়ের মানুষেরা সমিতি থেকে সুদের বিনিময়ে টাকা নিয়ে বাঁশ ও বেতজাত দ্রব্যসামগ্রী তৈরি করে বিক্রি করলেও এতে তাদের খরচ পোষায় না। এর ফলে তারা অন্য পেশায় আকৃষ্ট হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে বাঁশ ও বেতের সামগ্রী যারা তৈরি করছে তাদেরকে সরকার এবং বিভিন্ন এনজিও’র সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরী। বাংলার ঐতিহ্য বাঁশ ও বেতের সামগ্রীকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর পেছনের মানুষগুলোকে আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে তাদের পেশাকে বাঁচাতে হবে। প্রয়োজন হলে এদের বিনা সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এসব সুন্দর বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বাঁশ ও বেত শিল্পকে বাঁচাতে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।
E/N

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
চাঁদপুরে জেলা পুলিশের ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্বোধন মতলব দক্ষিণে কিজুনা গ্লোবালের জাপানি ভাষা শিক্ষা শাখার উদ্বোধন ইসলামী যুব আন্দোলন কেন্দ্রীয় সভাপতি হলেন মতলবের মানসুর সাকি সৌদি আরবে নিখোঁজ ফরিদগঞ্জের প্রবাসী শাহিন, ৫ মাসেও মেলেনি সন্ধান প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে মৈশাদীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা নিলেন প্রায় তিন শতাধিক মানুষ গজরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে শাহ আলম লস্করকে সমর্থন জানালেন গ্রামবাসী মতলবে উদ্ধার হয়নি রবিন : স্বামীর সন্ধানে ঘাটে স্ত্রী, লঞ্চসহ আটক ২ লংমার্চে কেউ কেউ বক্তব্য দিয়ে ‘বাঘ’ সাজতে চান : মানিক এমপি হাজীগঞ্জ ৯০ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার পরও দোকান বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দোকান মালিক আতাউলের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জে শহীদ আল্লামা ফারুকী (রহ.) স্মৃতি মেধা বৃত্তির সনদ বিতরণ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষকসহ দুজনকে অব্যাহতি আল আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডি বাতিলের প্রতিবাদে চাঁদপুর আল-আমিন সোসাইটির সাংবাদিক সম্মেলন কাঁকৈরতলা জনতা কলেজে নবীনবরণ ও নতুন ক্লাসের উদ্বোধন ২৬ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরে ওয়াজ মাহফিলে আসছেন গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী ইকরা মডেল একাডেমিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান হাজীগঞ্জের মোল্লা খোরে স্টেডিয়াম ও মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ার অপার সম্ভাবনা ভারতে পর্যটকবাহী বাসে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ৯ জনের গুলশানে গাড়িচাপায় বাকপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আপস ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই কিশোরের মৃত্যু