
স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচণায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা: পলাতক স্বামী শরিফ হোসেন রনি


প্রেম করে বিয়ে সেই সংসারে আলো করে দুই সন্তানের জন্ম হলেও শেষ পর্যন্ত মুধময় প্রেমের সর্ম্পক আর টিকলো না। স্বামীকে পরকিয়া আসক্ত হিসেবে সন্দেহ থেকে শুরু হওয়া পারিবারিক ঝামেলা, মারধরে ঘটনাও ঘটে। শেষ পর্যন্ত প্রেমিক স্বামীর অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে গলায় ফাঁস দিতে বাধ্য হয় আছমা আক্তার রিমা(৩০) নামে এক গৃহবধূ।
সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার তরে পোস্টমর্টেম করে।
এদিকে স্ত্রীর গলায় ফাঁসের পর দুই সন্তানকে রেখে প্রেমিক স্বামী শরিফ হোসেন রনি (৩২)ও পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঢাকার তুরাগ থানার তারারটেক এলাকায় ঘটলেও উভয়ের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায়।


এব্যাপারে নিহত রিমার বোন নাছরিনা জাহান বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচণায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা (নং-১৫,তাং-১৮/২/২০২৬) দায়ের করেছে। অন্যদিকে বৃহষ্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লাশের পোস্টমর্টেম শেষে রিমাকে তার বাবার বাড়ি ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকায় পশ্চিম বড়ালি গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে দীর্ঘ প্রেমের পরিনয় হিসেবে পূর্ব বড়ালি গ্রামের শাহজাহান কবিরের ছেলে শরিফ হোসেন রনির সাথে পাশ্বর্তী পশ্চিম বড়ালি গ্রামের আব্দুল মান্নান পাটওয়ারীর মেয়ে আছমা আক্তার রিমা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের খাদিজাতুল কুবরা সাইমা (১১) ও ১৩মাস বয়সী দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
আছমার বোন নাছরিনা জাহান জানান, বিয়ের কয়েকবছর পর হতেই তাদের মধ্যে প্রায়:শই ঝগড়াঝাটি হতো। তার বোনকে তার স্বামী নানা সময়ে বেদম মারধর করতো। এনিয়ে স্থানীয় ভাবে সালিসী হয়েছে। তারা গত দুই/তিন বছর ধরে ফরিদগঞ্জ থেকে ঢাকা চলে যায়। সেখানেই তুরাগ থানার তারারটেক এলাকার নজির আহমদ এর ৭ তলা বাড়ির ২য় তলায় তারা বসবাস করতো।
ঢাকা থাকাবস্থায় তার বোন প্রায়:শই তাকে ফোনে মারধরের কথা বলতো এবং তার স্বামী একাধিক পরকিয়ায় আসক্ত বলে অভিযোগ করতো। সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাত ২টা ১৫মিনিটে মোবাইল ফোনে জানায়, রনি তাকে বেদম মারধর করেছে, সে বাড়ি চলে আসবে। পরদিন সকালে তার বোনের মেয়ে খাদিজাতুল কুবরা সাইমা তাকে ভিডিও কলে ফোন করে তার মায়ের ঝুলন্ত লাশ দেখায় এবং তার বাবা পালিয়ে গেছেন। তারা তার বোনের হত্যার বিচার দাবি করেন।
খাদিজাতুল কুবরা সাইমা বলেন, তার বাবার সাথে তার মায়ের প্রায় সময়ে জগড়া হইতো, বাবা কয়দিন পরপর পরোকিয়া নিয়ে মার সাথে কথা কাটাকাটি হইতো। বাসায় অন্য কেউ আসে নাই, মারা যাওয়ার আগে মারধর করেছে।
এদিকে অভিযুক্ত শরিফ হোসেন রনির মুঠো ফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে পরিবারের সূত্রে জানাযায় রনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ডুবাইতে চলেগেছে।
তার মামা হারুনুর রশিদ জানান, বুধবার সকালে তাকে ফোন করে রনি জানায়, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরো জানান, রনি ও আছমা উভয় উগ্র স্বভাবের ছিলো। ইতিপুর্বে তাদের বিষয়ে সালিস করে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা সমাধান করে দিয়েছিলেন। এদিন প্রকৃত ঘটনা কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
পুলিশ জানায়, পরিবারের পক্ষ থেকে তারা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। এবিষয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








