
ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক কেন মন্ত্রিত্বের ন্যায্য দাবিদার


হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি দুই উপজেলা এবং দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৫ সংসদীয় আসন। এই জনপদের ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাড়ে এক সম্ভ্রান্ত ও সুশিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠা ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আদর্শে বিশ্বাসী থেকে মাঠে সংগ্রাম করেছেন।
পর্যায়ক্রমে তিনি চাঁদপুর জেলা বিএনপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেলা বিএনপির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সভাপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। নেতৃত্ব, সংগঠন পরিচালনা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সংকট দেখা দিলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাজীগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে উনার হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন। সেই আস্থা ছিল উনার দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সততা ও দলের প্রতি নিবেদনের স্বীকৃতি। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৬ পর্যন্ত তিনি প্রতিকূলতা, মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন দৃঢ়তার সঙ্গে। সংকটের সময়ে তিনি বটবৃক্ষের মতো ছায়া হয়ে সংগঠনকে আগলে রেখেছেন।


৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিহিংসা নয়, বরং শৃঙ্খলা ও শান্তির বার্তা দিয়ে তিনি কর্মীদের সংযত থাকতে আহ্বান জানান। এতে এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
ভোটের রাজনীতিতেও উনার শক্ত অবস্থান স্পষ্ট। ২০০৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি সারাদেশের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তদের একজন হয়েও পরাজিত হন, ২০১৪ সনে দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।২০১৮ সনে আওয়ামী লীগের অধীনে দিনের ভোট রাতেই সম্পূর্ণ হয়ে যায় সেখানেও সকাল বেলা ৩০ মিনিটের ভোটে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ৩৫হাজার ভোট পেয়েছে।তারপর দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন বয়কট করা হয়। কিন্তু সেই পরাজয় উনাকে থামাতে পারেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এবং ১৫৮টি ভোট কেন্দ্রে সবগুলো কেন্দ্রে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এটি উনার দীর্ঘদিনের জনসংযোগ, সততা এবং মানুষের আস্থার প্রতিফলন।
আজ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির সাধারণ মানুষের মুখে একটি প্রত্যাশা শোনা যায়—চাঁদপুর জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন একজন নিরহংকারী, পরোপকারী, ভদ্র ও ক্লিন ইমেজের শিক্ষিত নেতা। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী,সাহসী জাতীয়তাবাদী দলের পরিক্ষিত সৈনিক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সেই দাবির স্বাভাবিক এবং ন্যায্য দাবীদার
এই দাবি কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয় এটি হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির মানুষের স্বপ্ন, উন্নয়ন প্রত্যাশা এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। একজন অভিজ্ঞ সংগঠক, পরীক্ষিত নেতা এবং জনগণের আস্থাভাজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেলে জেলা ও বিভাগের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন এমনটাই বিশ্বাস করেন এলাকার সচেতন মানুষ।








