
কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হেলাল উদ্দিন জেলহাজতে


কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. হেলাল উদ্দীন (৫৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার অ্যাড. হেলাল উদ্দীন ২০২২ সালের বিএনপির ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে ভাংচুর ও চাঁদা দাবীর ঘটনায় দায়ের হওয়ায় মামলায় চাঁদপুরের কচুয়া আমলী আদালতে জামিন চাইতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় কুমার দাস জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেন। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ভাই অ্যাড. সোহাগ উদ্দীন। তিনি আরো জানান, ওই মামলায় অ্যাড. হেলাল উদ্দীন উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। মঙ্গলবার ছিল তার শুনানির দিন।
উল্লেখ্য, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের বিএনপির ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে ভাংচুর ও চাঁদা দাবীর ঘটনায় ৮৯জনের নামীয় ও অজ্ঞাত নামা ৫’শ জনের নামে কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট রাতে উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে মতিউর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও সাবেক এমপি ড. সেলিম মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. হেলাল উদ্দীন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব আলম ও সাবেক মেয়র নাজমুল আলম স্বপনসহ ৮৯জনকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাত ৫শত জনকে বিবাদী করা হয়। মামলা নং ৬/১২৭। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫এপ্রিল কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় বিএনপি ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিকাল সাড়ে ৫টার সময় উক্ত অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বদরপুর এলাকায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন ও তাঁর স্ত্রী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী পৌছলে আওয়ামী লীগের ৪০/৫০ জন যুবক তাদের গাড়ি ও অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল ভাংচুর করে এবং ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে।


এ সময় অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং আসামীগন অস্ত্র, পিস্তল, রিভলবার ও শর্টগান দিয়ে আক্রমন করে ২৭জনকে জখম করে। আহতরা গৌরিপুর, মতলব ও হাজীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করে। ঘটনারপর কচুয়া থানায় অভিযোগ করতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। গত ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় মামলা দায়ের করেন বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়। উক্ত মামলার স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ১৬জন। তন্মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন ও তাঁর স্ত্রী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, আতাউল করিম, ওলিউল্যাহ, শিব্বির আহমেদ, কবির হোসেন, ওবায়েদ মুন্সি, জাকির হোসেন প্রমুখ।



























