
মতলব উত্তরে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ ও অনুদানের চেক প্রদান


গ্রামবাংলার প্রথাগত ও ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, উৎপাদিত পণ্যের আধুনিকায়ন এবং তাঁদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সম্পন্ন হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বিশেষ পেশাভিত্তিক ‘সফটস্কিল’ প্রশিক্ষণ।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় মতলব উত্তর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে। গত ১৬ সেপ্টেম্বরে শুরুহয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ নিবিড় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (৩০সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রশিক্ষণ সমাপনী ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে মতলব উত্তর উপজেলা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল আল মামুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য আলমগীর সরকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের সহ সভাপতি খায়রুল হাসান বেনু, মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি সফিকুল ইসলাম রানা, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওমর ফারুক।


১০ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে বিভিন্ন সেশনে উপস্থিত থেকে প্রান্তিক পেশাজীবীদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বাশীর, সদর দপ্তরের মাস্টার ট্রেইনার, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় সহকারী পরিচালক সহ মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বংশানুক্রমে গড়ে ওঠা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প, কামার, বাঁশ-বেত ও কাঁসা-পিতল শিল্প কিংবা জুতা মেকানিকের (মুচি) মতো পেশাগুলো আধুনিকতার প্রভাবে আজ বিলুপ্তির মুখোমুখি। প্রযুক্তি ও দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়া এই প্রথাগত পেশাজীবীদের টিকিয়ে রাখতে আধুনিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১৭ সাল থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিক কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের কামার, কুমার, নাপিত, বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুতকারক ও নকশিকাঁথাসহ ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পে যুক্ত মানুষদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা নতুন কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠান শেষে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা নির্বাচিত ৩০ জন প্রান্তিক নারী-পুরুষের প্রত্যেকের হাতে এককালীন ১৮ হাজার টাকার আর্থিক অনুদানের চেক ও প্রশিক্ষণ সনদপত্র তুলে দেন উপস্থিত অতিথিরা।



























