
হারুন অর রশিদের প্রকাশিত দুইটি কাব্যগ্রন্থ


মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। কখনও তিনি একজন অভিভাবক কখনও হাজারও শিক্ষার্থীর শিক্ষা গুরু আবার কখনও তিনি একজন লেখক।
মানুষ একজনই কিন্তু তার ইচ্ছে শক্তি আর অসাধারণ লেখনিতে রুপ নিয়েছেন কয়েক নামে। একজন সফল অভিভাবকের গুরু দায়িত্ব যখন তার কাঁধে তখন পেশা হিসেবে বেঁচে নেন শিক্ষকতাকেই। তবে সখের বসে লেখালেখি শুরু করেও ইতোমধ্যে লিখেছেন তিনি দুই শতাধিক কবিতা। প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা বিপ্লবী উন্মাদ ও আত্মদর্শন নামের দুইটি বই। তার লেখা বিপ্লবী উন্মাদ নামের কবিতাটি চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত অমর একুশে বই মেলা ও হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ২০২৩ সালের একাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সেলিম পাটোয়ারী।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের বড়কুল মিজি বাড়ির লুৎফর রহমান ও বেগম লুৎফুন্নেছা দম্পতির চতুর্থ সন্তান হারুন অর রশিদ। ১৯৭৯ সালের ৩১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন তিনি।


নিজ গ্রাম বড়কুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাক-প্রাথমিক, ১৯৯৪ সালে রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে ১৯৯৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে। এরপর ২০০০ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে ওই কলেজ থেকে বিএসসি ও ২০০১ সালে এম এস -সি পাশ করে পেশা হিসেবে বেঁচে নেন শিক্ষকতাকে। কেরোয়া হোসনেআরা বেগম আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করে আইসিটি বিভাগকে যোগ দেন হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনা হিসেবে।
অধ্যাপনার সাথে সাথে সাহিত্য চর্চাও করেন শিক্ষক হারুন অর রশিদ। নিয়মিত তিনি পত্রিকা, ম্যাগাজিণ ও ব্লগে লেখালেখি করেন।
এরপর থেকেই লেখা শুরু হয় তার একের পর এক কবিতা। যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই শতাধিকে। এরমধ্যে অন্যতম একটি কবিতা হলো বিপ্লবী উন্মাদ। যে নামে ৬০টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয় একটি বই। তার এই কবিতায় সামাজিক ও রাজনৈতিক শোষন, দমন, পিড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান, সমাজে অবহেলিত, শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের ব্যাথা বেদনার কথা ধ্বনি-প্রতিধ্বনি, সাধারন মানুষের ঘাড়ে পা রেখে কিভাবে বিত্তবান হচ্ছে তার একটি চিত্র, বর্তমান রাজনৈতিক ফ্লাটফর্মে আসীন হওয়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের চরিত্র, সকল সামাজিক, রাজনৈতিক অনাচার ও দূরাচারের বিপক্ষে সাধারণ মানুষকে একতাবদ্ধ হয়ে লড়াই করার জন্য কবি তার কাব্যিক ভাষায় উপস্থাপন, ব্যাক্তি জীবনে মানুষের গুনাবলী কি হওয়া উচিৎ এবং কি করছে তারা? এসব বিষয়ে পুঙ্খানু-পুঙ্খ বিশ্লেষণ ও মহাণ সৃষ্টিকর্তার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে মানুষ ইহজাগতিক ও পরজাগতিক মুক্তির কথা, ধর্ম দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান’সহ ফুটিয়ে তুলেছেন সমাজের নানান কথা।
৬০ টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত বিপ্লবী উন্মাদ ও ৪৮ টি কবিতা নিয়ে আত্মদর্শন নামের প্রকাশিত দুই বইয়ের অপেক্ষা শুধু এখন মোড়ক উন্মোচনের।








