
বাদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, খোঁজ নেই ৩৬ শতাংশ সম্পত্তির!


প্রতিষ্ঠার ৭২ বছরেও ম্যানেজিং কমিটি কিংবা শিক্ষকেরা জানেন না বিদ্যালয়ের জমির ঠিকানা। এ যেন কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই। ঘটনাটি চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার বাদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়টি আছে, নেই ৩৬ শতাংশ সম্পত্তির খোঁজ।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন বিদ্যালয়ের নামে ১টি খতিয়ানে ২টি দাগের মধ্যে ৩৬ শতক জমি দান করেন দাতারা। পরে ১৯৯৮ সালে একই ক্যাম্পাসে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ হয় বাদিয়া এম হক উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গায়। এরপর পেরিয়ে গেছে ২৪ বছর। বিদ্যালয়ের মূল ভবন রয়েছে উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গার উপর। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি পশ্চিম পাশের পুকুরে। পুকুরের কোন অংশে এই জায়গা তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না ম্যানেজিং কমিটি কিংবা শিক্ষকরা। প্রাপ্য তথ্যমতে বিদ্যালয়ের ভূমিদাতারা হলেন রমজান আলী, আবদুল কাদের, মোঃ ইসমাইল, আবুল হাসেম ও মমতাজ উদ্দিন দান করে গেছেন।
সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের দাতা পরিবারের সদস্য ও নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী মোঃ ইমাম হোসেন পুকুরের পশ্চিম পাড়ে পাকা ইমারতের কাজ শুরু করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বলে তোপের মুখে পড়েন।


শিক্ষক প্রতিনিধি হারুনুর রশিদ শেখ জানান, বিষয়টি অবগত হয়েছি। ম্যানেজিং কমিটির সাথে সমন্বয় করে এ ব্যপারে শিক্ষা কার্যালয়ে জানানো হবে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নবাগত সভাপতি মোঃ নূরুদ্দিন মিরণ জানান, সকলের সাথে আলোচনা করে ভূমি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী মোঃ ইমাম হোসেন ভূমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নিজের সম্পত্তির উপর ভবন তৈরী করছেন। বিদ্যালয়ের ভূমি চিহ্নিত করলেই এ ব্যপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একই ক্যাম্পাসের বাদিয়া এম হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামছুল হুদা পাটোয়ারি জানান, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে ভবন নির্মানের অনুমতি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোন দালিলিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ লুৎফুর রহমান ভুঁইয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ভূমি উদ্ধারে আবেদন করার নির্দেশ প্রদান করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদ জানান, বিদ্যালয়ের ভূমি যাতে কেউ দখল না করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পপুলার বিডিনিউজ, শাহরাস্তি, চাঁদপুর।








