
হাইমচরে অবৈধ বালু উত্তোলনে দায়ে ৫ জন গ্রেপ্তার


চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী একটি খেলার মাঠ রাতের আঁধারে গিলে খেয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার দুপুরে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতের তাদেরকে হাজির করা হবে বলে জানান হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজমুল হাসান।
পুলিশ জানায়, উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ১নং গাজীনগর এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন কয়েক একর বালিচর ড্রেজার দিয়ে কেটে নেওয়ায় সেখানে এখন নদীর অথৈ জল। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে; হুমকির মুখে পড়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলু মুন্সি ও রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ প্রতিদিন বিকেলে এখানে ছেলেরা ফুটবল খেলল, আর সকালে এসে দেখি মাঠটাই নেই! ড্রেজার দিয়ে সব বালু নিয়ে গেছে। এই বালু কাটার ফলে নদী রক্ষা বাঁধটি এখন চরম ঝুঁকিতে। বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”


থানা পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে পানি উন্নয়ন বোর্ড । ৭ জন হলো হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিজির ছেলে আব্দুল কাদের(২২), পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার স্বরুপকাঠি এলাকার মোঃ নুরুল আমিনের ছেলে মোঃ আইয়ুব আলী (২০), নাজিরপুর থানার মধ্য কলারদোয়ানীয়া এলাকার মোঃ মোস্তফার ছেলে মোঃ আমান উল্যাহ(১৯), শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার ঢাকেরহাটি এলাকার মোঃ শহিদুল আখন এর ছেলে মোঃ মোরশালিন (১৯), পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার কলারদোয়ানিয়া এলাকার মোঃ আবু হানিফ ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম(২৩), হাইমচর থানার উত্তর বগুলা গ্রামের ছানাউল্লাহ মিজির ছেলে দোলোয়ার মিজি (৪৪), দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড চরভাংগা গ্রামের কাদের গাজীর ছেলে মনির হোসেন প্রঃ জুয়েল(৩৫)।
হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, মামলার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া এমবি মিম এন্টারপ্রাইজ নামক একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় জানান, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে । অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আমাদের স্টকে থাকা ব্লক এনে প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি।”
এদিকে হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক বলেন, “যারা এই বালু কেটে নদী রক্ষা বাঁধকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের কঠিন বিচার করতে হবে। এদের বিচার না হলে অচিরেই হাইমচর নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।”








