
জার্মানির মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর ডিগ্রি অর্জন করলেন ড. শফিকুল


ড. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের শীর্ষ বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাড়ি জমান। তাঁর পরিশ্রম, মেধা ও অদম্য মনোবলের এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর পিতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে অন্য সন্তানদের মতোই তিনি আলোকিত করেছেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার পশ্চিম বড়ালি গ্রামের কলি মিয়া মিয়াজি বাড়ির কৃতিসন্তান। মো. আবুল হোসেন ও রওশন আরার দাম্পত্যের ৫ সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
গবেষণা, প্রযুক্তি, প্রকৃতি সংরক্ষণ ও ক্রিকেট-সবকিছু মিলিয়ে ড. মো. শফিকুল ইসলাম এমন এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব, একাধারে উচ্চতর বিজ্ঞানচর্চা করেন।
বর্তমানে তিনি জার্মানির বিখ্যাত ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউট Max Planck Institute for Plant Breeding Research (MPIPZ)-এ উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর গবেষক হিসেবে কাজ করে আরছেন। Max-Planck Genome Centre-এ তিনি অতি আধুনিক জিনোম সিকোয়েন্সিং, বায়োইনফরমেটিক্স ও কম্পিউটেশনাল গবেষণা পরিচালনা করেন। এই উচ্চ-প্রযুক্তি পরিবেশে তিনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন একজন গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সমন্বয়কারী, যাঁর দক্ষতা গবেষণা অগ্রগতিতে বাস্তব ভূমিকা রাখছে।


তাঁর একাডেমিক পথচলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ড. শফিকুল ইসলাম জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ (LMU) থেকে সম্প্রতি পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন, যেখানে তিনি মলিকুলার ইকোলজি ও ফাইলোজেনেটিক্স নিয়ে গবেষণা করেন। এর আগে তিনি Msc। সম্পন্ন করেন Ludwig Maximilan university থেকে। ক্লাসিক্যাল প্রাণিবিজ্ঞান ও আধুনিক জিনোমিক্সের এই সুন্দর সমন্বয় তাঁকে আজকের বহুমুখী গবেষক হিসেবে গড়ে তুলেছে।
বিদেশে মাটিতে একাধিক কাজে ব্যস্ত সময় কাটালেও তাঁর নিজ দেশের জন্য হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু। দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিনি বহু বছর ধরে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের জীবজগত নিয়ে তৈরি প্রথম ইন্টারেক্টিভ প্ল্যাটফর্ম Wild Mentor-এর সহ-উদ্ভাবক তিনি। এই প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে তিনি সারা দেশে সচেতনতা অভিযান, কর্মশালা, বিশ্ববিদ্যালয় সেমিনার পরিচালনা করেছেন। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে তাঁর অবদানের কারণে দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল তাঁকে তুলে ধরেছে একজন তরুণ পরিবেশ-অনুপ্রেরণা হিসেবে।
গবেষণাগারের বাইরেও খেলাধুলা নিয়ে তাঁর অনেক আগ্রহ, বিশেষ করে জার্মানিতে বসবাসরত বাংলাদেশি যুবকদের ক্রিকেটে আগ্রহী ও সংগঠিত করতে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয় IRhein Rhur Sports Club প্রতিষ্ঠা করে ইউরোপে ক্রিকেট কে জনপ্রিয় করে তোলায় তা জার্মান সরকার কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে তিনি।
বিদেশে বসবাস করলেও জীবনসঙ্গিনী বেঁচে নিয়েছেন নিজ দেশের নিজ উপজেলায়।
তার স্ত্রী জান্নাতুল রাফেয়া একজন পিএইচডি গবেষক হিসেবে কর্মরত আছেন ইউনিভার্সিটি অফ আখেনে।








