
দুঃসময়ে ঈদ
Link Copied Successfully!

সন্ধ্যাবেলা মসজিদে মাইকিং পবিত্র ঈদুল ফিতরের, চাঁদ দেখা গেছে আগামীকাল ঈদুল ফিতর, বুকের ভিতর একটা করুন চিৎকার করে উঠলো। হায়রে কাল ঈদ, আমার ৬ মাস এর শিশু টা, তার জন্য এখনো একটা জামা ও কিনতে পারিনি, এক টুকরো মাংস ও একটু সেমাইয়ের ব্যবস্থা করতে পারিনি। মা হিসেবে আমি খুব খারাপ, অভাগিনী, এমন দিন আসবে কোনদিন চিন্তা করিনি।
১ টা দিন রোজা বেশী হলে ভালো হতো, যদি কিছু টাকায়েরই মধ্যে যোগার হতো তাহলে বাচ্চা টার মুখে একটু সেমাই তুলে দিতে পারতাম। এটা ওর জীবনে প্রথম ঈদ, কথা গুলো ভাবতে ভাবতে চোখে অনারবত পানি পরছে, আমি ছোট একটা চাকরী করি ২০০০ বেতনে, গত ৪ মাস ধরে বেতন আটকে আছে, হাতে যা ছিল তা খচর করে অনেক টা ধার দেনা করেই চলছি, এরি মধ্যে রমজান মাস ও শেষ হয়ে কাল ঈদ, মনে কোনো আনন্দ নেই, চারদিকে বাজি পোরানোর শব্দ, ঘরে ঘরে মেহেদী পরার ধুম।
এগুলো আর সহ্য হচ্ছে না, বাচ্চা কে বুকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে কাঁদছি, আর বাবুর আব্বুর কথা ভাবছি, ঈদ আসলো অথচ একটি বার ও আমাদের খোঁজ ও নিলো না আমরা কি করছি কেমন আছি। বাবুর আব্বু অনেক দূরে একটি শহরে চাকরী করে, সেখানেই থাকে, গত ৮ মাস ধরে তার সাথে কোন যোগাযোগ হয় না সেও করে না, ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা নিয়ে কথা কাটাকাটি করে সে আমাদের থেকে দূরে, ছেলে হওয়ার খবর পেয়েও আসেনি। তাই রাগ করে আমি ও যোগাযোগ করি না, আজ নিজেকে বড্ড অসহায় লাগছে, ছেলেটা ও এতিম এর মতো, এগুলো ভাবতে ভাবতেই চোখের পানি ঝরেই চলেছে, হঠাৎ দরজায় কে যেন ধাক্কা মেরেছে , ভয়ে আতকে উঠলাম, যা চুরি ডাকাতি শুরু হয়েছে ইদানীং আমরা মা ছেলে একা ঘরে, এই গরীব এর ঘরে তো চুরি করার ও কিছু নেই, এসব চিন্তা করছি এদিকে দরজা আবার ও ধাক্কা মারছে ,ঘড়িতে তখন রাত ২ টা, ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম কে, এতো রাতে, উওর আসলো এই আমি দরজা খোলো।
আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না, একটু ও সময় না নিয়ে দরজা খুলে দিলাম, আর এতোদিন পর তাকে দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না, বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে থাকলাম, সে বললো শান্ত হও, আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো আমার আব্বু কই? ছেলে কই, কত বড় হয়েছে। আমার আব্বু, দেখি,বলেই ঘুমের মধ্যে ছেলেকে কোলে নিলো। আদর করে চুমো খেলো।বললো ঘরে কিছু আছে ভাত থাকলে দাও, ভাত ছিল কটা, অল্প ডাল আর বেগুনি, এই দিয়ে দুজন পেটপুরে ভাত খেলাম, অনেক দিন পর মনে হলো খেয়ে পেট ভরেছে। এবার বললো তোমাদের জন্য কি এনেছি দেখবে না, এই নাও এটা তোমার জন্য, এই বলে শাড়িটি আমার হাতে তুলে দিলো আমার পছন্দের রং, খুব সুন্দর, হয়েছে, এবার পাঞ্জাবি বের করতে করতে, বলে উঠলো বাবু যখন তোমার পেটে ছিল তখন বলেছি না বাপ বেটা মেচিং পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজে যাবো এই দেখ, সুন্দর হয়েছে না বাপ বেটার মেচিং পাঞ্জাবি, আনন্দে মনটা ভরে উঠলো।
আবার তাকে জড়িয়ে ধরে কাদঁতে থাকলাম, চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো, কেঁদো না, যত যাই হোক স্ত্রী সন্তান কি ফেলে দেওয়া যায়, তোমারাই তো আমার ঈদ, ঈদ মোবারক, এই বলে বারান্দায় দুজনে ঈদের চাঁদ দেখতে দেখতে, ফজরের আযান দিল।, সকালে বাপ বেটা মেচিং পাঞ্জাবি পরে মসজিদে ঈদের নামাজে গেলো, আমি সেমাই রেডী করেছি,আসলে একসাথে খাবো, আর মনে মনে আল্লাহ কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।




























