
কাউছার আলম রবি’র তিনটি কবিতা


জয় হোক চিরযৌবনা বসন্তের
দেহ জমিনে আজও বর্ষা নামেনি
খরা আর দাবদাহে যেন উষ্ম মরু,
নেই সবুজের ছায়া কিংবা তরুর চিহ্ন।
শুকনো মাটির ঢেলার মতো খটখটে কংক্রিট,
নেই কারো পদচিহ্ন, কেউ আঁকেনি কোমল স্পর্শ
জমিন জুড়ে অতৃপ্ত তৃষ্ণা বর্ষার তুমুল হাহাকার।
আহবান করি এক সুন্দর বর্ষা হয়ে আগমন করো তুমি মায়াবিনী,
পিপাসার করে অবসান জাগাও পাল নবসবুজের
জয় হোক চিরযৌবনা বসন্তের।



তুমি আমার শিক্ষাগুরু
মাগো তুমি অন্ধকারে জোস্না রাতের খেল,
মাগো তুমি গ্রীষ্মের দাবদাহে
আরামপদ শীতল সমীর বহে আসা দোর।
মাগো তুমি শীতের রাতে,
নকশিকাঁথার উষ্ণতাময় পরশ।
সন্তানের দুঃখ দৈন্যে কাল বৈশাখীর ঝড়ে,
তোমার ভালোবাসা মাগো উপছে পড়ে।
তুমি আমার শিক্ষাগুরু তোমার হাতে খড়ি,
তুমিতো মা প্রথম শিক্ষক সকল গুনে গুনী,
কোরআন কিতাব সকল স্থানে তোমার শ্রেষ্ঠত্ব শুনি।
তোমার পদতলে সদা পাই যেন গো ঠাঁই,
রবের দেওয়া মহান দান জান্নাত যেন পাই।
তোমার পরশ মেখে
তোমার পরশ মেখে মাগো
জীবন রঙ্গীন হলো,
এমন মায়াবিনী মন কোথায় পেয়েছো বলে?
তোমার সেবায়, তোমার মায়ায়,
ফুল ফুটেছে এ নিথর কায়ায়।
আদরমাখা দুটো হাতে কি যাদু যে আছে!
তোমার ভালোবাসায় মাগো
শত সন্তান বাঁচে।
সকল ব্যথা কর বরণ,
খোকন সোনার মুখখানি করে স্বরণ,
সেবাব্রত কর পালন আমরন,
তুমিতো মা যুগ জনমের শ্রেষ্ঠ আপনজন।
অসুস্থ্য শরীর সুস্থ্যতা পায়
তোমার স্নেহ আর ভালোবাসায়,
অশান্ত মন শান্ত হয় তোমার অনুপ্রেরনায়,
সুখের দিনের হওনা সঙ্গী,
তবে দুঃখের বড় ভাগিদার,
শ্রেষ্ঠতম উপহার তুমি মহামহিমের।

কবি পরিচিতি – কবি কাউছার আলম রবি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯২ সালের ১৫-ই জুন সোমবারের বর্ণীল প্রভাতে। রেহেনা তাহের দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনিই প্রথম। তার শৈশব ও কৈশোর কাটে ইলিশের বাড়ি খ্যাত চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার সুপরিচিত বলশীদ গ্রামে। তিনি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স¤œান ও সম্মানোত্তর ডিগ্রি প্রথম বিভাগে অর্জন করেন। তাঁর রচিত যৌথ কাব্যগ্রন্থগুলো হলো অতৃপ্ত বেদনার আত্ম হাহাকার, মক্কার প্রান্তরে, প্রতিক্ষা, অপেক্ষা ইত্যাদি। এছাড়াও তিনি চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে বেশ লেখালেখি করে আসছেন। তিনি বর্তমানে ডুমুরিয়া গাউছিয়া ছোবহানিয়া আলিম মাদ্রাসায় প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।




























