
প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম বিএনপি থেকে কুসিক মেয়েরকে অব্যাহতি


কুমিল্লা সিটি করপোরেশন কুসিক এর জন নন্দিত পর পর দুই বারের নির্বাচিত মেয়র মোঃ মনিরুল হক সাক্কুকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি। গত অক্টোবরে তাকে এ অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বিষয়টি আলোচনার বাইরেই ছিল।
সাক্কুকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যহতি দেওয়ার বিষয়টি সোমবার রাতে নিশ্চিত করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে সাক্কুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয়বার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু তাঁর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ) পা ছুঁয়ে সালাম করেন। এ নিয়ে ওই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র দলীয় নেতাকর্মীরা সাক্কুর ব্যাপক সমালোচনাও করেন। সেই থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় সাক্কু।
দলের কর্মকৌশল ঠিক করতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে গত ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা করে বিএনপি। সে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের। এর মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কুমিল্লা বিভাগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়ও সাক্কু অনুপস্থিত ছিলেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে সাক্কুকে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি ।
এ প্রসঙ্গে মনিরুল হক সাক্কু সাংবাদিকদের বলেন, আমি উত্তর দিয়েছিলাম, সেদিন আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সাথে কুমিল্লায় আমার একটি রাষ্ট্রীয় বৈঠক ছিল। যেদিন বৈঠক তার দুই দিন আগে ঢাকা থেকে চিঠি আসছে মিটিংয়ের। সে জন্য আমি যেতে পারিনি। আমি সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যাও দিয়েছি। দল তাদের, আমি ৪০ বছর বিএনপি করি। এটি তারেক রহমান সাহেবের ব্যাপার। পার্টির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তারা যা খুশি তা করুক। আমি আমার মতো চলছি। স্বাধীন রাষ্ট্রের একজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করানোর পর তাঁর পা ছুয়ে সালাম করলে এটাকে নিয়ে কালার করার কিছু নেই। সিটি করপোরেশন এর জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে সরকার দলীয় মন্ত্রী ও এমপিদের সাথে বৈঠক করতে হয় এতে দোষের কি আছে।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাক্কু বিএনপির রাজনীতিতে সেভাবে নেই। তার আশপাশের লোকজনও ক্ষমতাসীন দলের। তার সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তেমন যোগাযোগ নেই। দলীয় কর্মকাণ্ডে তিনি অংশও নেন না। বরং তার বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সখ্যতার বিষয়টি সবারই জানা। এসব বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে স্থানীয় পর্যায় থেকে বারবার অভিযোগও করা হয়।
অপর এক নেতা জানান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে চিঠির জবাবে কেন্দ্রীয় বিএনপি সন্তুষ্ট হয় নি তাই তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।






























