
সবজি চাষী একজন জেলা প্রশাসক


জেলা প্রশাসক ( ডিসি) জেলার সব কাজের দেখভাল করতে হয়। জেলার আইনশৃংখলা রক্ষা থেকে শুরু করে সব কাজেই তাঁকে মনযোগ দিতে হয়। কুমিল্লা দেশের একটি বৃহত্তম জেলা ১৭ টি উপজেলার সমন্বয়য়ে এ জেলাটি গঠিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বিভাগ ঘোষণার অপেক্ষায় এ প্রাচীন জেলাটি । এমনই একটি ব্যাস্ততম জেলা কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। কুমিল্লা জেলার সব প্রশাসনিক কাজ শেষ করে ব্যাস্ততার সাথে সময় পাড় করে নিজের বাসভবনকে সবুজের সমারোহ বানিয়েছেন সবধরনের সবজি চাষ করছেন কুমিল্লার প্রকৃতি প্রেমী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬ টা৩০ অথবা ৭ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে ডিসি তাঁর বাসভবনের বিভিন্ন জায়গায় সাহায্য কারী লোকজন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ৬২ প্রকার শীতকালীন সবজিসহ নানা রকমের ফল ও ফুলের চাষ ও পরিচর্যা করেন।
জেলা প্রশাসকের বাংলো লাগোয়া বিলুপ্ত কুমিল্লা উদ্ভিদ উদ্যানের অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এখন সেই জমিতে সবুজের সমারোহ। পতিত জমিতে ৬২ রকমের সবজি, ফুল ও ফলের আবাদ হচ্ছে।
ওই সব সবজি ও ফুল-ফলের আবাদের পিছনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। তিনি প্রতিদিন সকালে নিজে গাছের পরিচর্যা করেন। এ ছাড়া ছুটির দিনে অবসর সময়ে তিনি মাঠে কাজ করেন। শীতকালীন ও বারোমাসি ফসল দোল খাচ্ছে একেকটি ব্লকে।
জেলা প্রশাসকের দপ্তরের তালিকা থেকে জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। এগুলো হলো পালংশাক, লালশাক, মুলাশাক, ডাঁটাশাক, লাউশাক, পুঁইশাক, কাঁকরোল, পটোল, শজনে, কাঁচকলা, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, শর্ষে, গাজর, ধনেপাতা, বিলাতি ধনেপাতা, শালগম, বেগুন, ঝিঙে, বরবটি, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, লেবু, শসা, ধুন্দুল, করলা, স্কোয়াশ, শিম, ফুলকপি, লেটুস, বাঁধাকপি, কলমি, ব্রকলি, টমেটো, ওল, মরিচ, স্ট্রবেরি ও ক্যাপসিকাম। ১৬ ধরনের ফুলের মধ্যে সিলভিয়া, অর্কিড, গন্ধরাজ, টগর, জবা, বেলি, কসমস, গাঁদা, সূর্যমুখী, রাধাচূড়া, বেলি, জুঁই, বকুল, রঙ্গন, কামিনী ও মালতি। সাত ধরনের ফল চিরতা, তোকমা, লটকন, ডালিম, সফেদা, আমড়া ও কলা আম,কাঠাল,জাম চাষ হচ্ছে।


কুমিলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন,আমি ছোট বেলা থেকেই সবজি বাগান শখের বসে করতাম। যখন সহকারী ভূমি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি তখন তখন সবজি বাগান আমর নেশা হয়ে দাঁড়ায় তখন ছাঁদের বিশাল অংশে ছাঁদবাগান গড়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমার বাগানে সূর্যমুখী, গাঁদা, গোলাপসহ নানা প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। কিছুদিন পর বাগান থেকে সবজি ও বিভিন্ন ফল পাওয়া যাবে। পরিকল্পনা আছে বাগানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসব। তাদের মাঝে সবজি ও ফল বিতরণ করব। যেন শিক্ষার্থীরা বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হয়।
বাগান করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুপ্রেরণা রয়েছে উল্লেখ্য করে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘আমার স্ত্রী উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাগান করার ক্ষেত্রে তার অনুপ্রেরণা আমাকে উৎসাহিত করে।’
জন্য গাছে টানিয়েছেন মাটির কলস। যেখানে পাখি এসে বসে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আমার অনেক ভাল লাগে।




























