
অর্থ সংকটে হারিয়েছেন সব, ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রীও ছেড়ে গেছে সুজনকে


অর্থ সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাঁদপুরের পুরানবাজারের বাসিন্দা সুজন মজুমদার। জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ভালোবাসার স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। সঙ্গে নিয়ে গেছেন সংসারের আসবাবপত্র ও একমাত্র পুত্র সন্তানকেও।
রবিবার (৫ এপ্রিল) কাঁদতে কাঁদতে নিজের দুঃখের কথা এ প্রতিবেদককে জানান সুজন মজুমদার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরানবাজারের রয়েজ রোডে একটি ছোট্ট এক কক্ষের টিনশেড দোকানে চিপস, চকলেট, কেক-বিস্কুট ও চা বিক্রি করছেন তিনি। দোকানের ভেতরেই কালো কাপড় দিয়ে ঘেরা একটি ছোট বিছানায় তার বসবাস।


সুজন মজুমদার (৪৬) স্থানীয় মৃত সুখ রঞ্জন মজুমদার ও রেবা মজুমদারের চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। পরিবারের দুই ভাই ইতোমধ্যে মারা গেছেন। অন্য ভাই-বোনেরা নিজ নিজ সংসারে ব্যস্ত। তার বৃদ্ধা মা বিভিন্ন সময় সন্তানদের বাসায় থাকেন।
সুজন জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর নানা কাজ করে ভালোই আয়-রোজগার করতেন তিনি। যুবক বয়সে বলাখাল রামপুর এলাকার মুক্তা রানী সাহাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি ডিস লাইনের ব্যবসা করতাম। ২০২০ সালে কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত দুইতলা থেকে পড়ে যাই। এতে আমার পা ও কোমর আংশিক অবশ হয়ে যায়। সেখান থেকেই জীবনের সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “যখন আমার পাশে থাকার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন আমার স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে চলে যায়। যাওয়ার সময় আমার অসুস্থ মাকে একা রেখে আমার একমাত্র ছেলে তীর্থ মজুমদারকেও নিয়ে যায়। এমনকি ঘরের সব আসবাবপত্রও নিয়ে গেছে।”
সুজন জানান, ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি অসুস্থ ছিলেন। মানুষের সহায়তায় থেরাপি নিয়ে এখন কিছুটা সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে লাঠির সাহায্যে ধীরে ধীরে চলাফেরা করতে পারেন। পাশের এক ভাইয়ের বাসায় মাঝে মাঝে একবেলা খাবার খান।
তিনি বলেন, “কিছু ভালো মানুষ আমাকে সহায়তা করে এই ছোট দোকানটি চালু করে দিয়েছেন। কিন্তু দোকানের আয় খুবই কম। মাসে ১,৮০০ টাকা ভাড়া দিয়েই সব শেষ হয়ে যায়। খুব কষ্টে দিন কাটছে।”
সুজনের আশা, সমাজের দানশীল ব্যক্তি বা প্রশাসনের সহায়তা পেলে তিনি তার দোকানটি বড় করতে পারবেন। একটি ফ্রিজ, বিকাশ সেবা এবং কিছু মুদি পণ্য যোগ করে আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তিনি বলেন, “সব কিছু জেনে যদি কোনো নারী আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়, তবে তাকে নিয়ে জীবনের বাকি পথটুকু পার করতে চাই।”
বর্তমানে মানবিক সহায়তার প্রত্যাশায় দিন কাটছে সুজন মজুমদারের।








