
চাঁদপুর-৩ আসনে এমপি প্রার্থী ৮ জনের ৫ জনই সাংবাদিক!


চাঁদপুর-৩ ( চাঁদপুর সদর – হাইমচর) আসনে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন আট রাজনৈতিক দলের আট প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৫ জনেই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সাংবাদিকতায় জড়িত। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা মানুষগুলো এখন উন্নয়নের ধারকবাহক হতে নেমেছেন ভোটের লড়াইয়ে। চাঁদপুরকে নান্দনিক শহর গড়তে ভোটারদের সমর্থন চাচ্ছেন প্রার্থীরা।
পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার পাড়ের চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী আসন। এখানে বিএনপি-জামায়াতসহ আট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা লড়ছেন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সাংবাদিকতায় জড়িত ৫ প্রার্থী। তারা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এ এইচ এম আহসান উল্ল্যাহ, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মো. জয়নাল আবেদীন শেখ ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।


সাংবাদিকতা ও রাজনীতি একে অপরের পরিপূরক, সাংঘর্ষিক নয়- বলছেন তারা।
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন। তিনি দৈনিক আলোকিত চাঁদপুর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা থেকেই গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতিতে আসা। পরবর্তীতে চাঁদপুর-৩ আসনে আমাকে নমিনেশন দিয়েছে। পাঁচ জনেই সাংবাদিকতা পেশায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। এটাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মনে করছি না, এটাকে প্রতিযোগিতা মনে করছি।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তিনি বলেন, ‘ একটার সাথে আরেকটটা পরিপূরক। রাজনীতির বাহিরে এই চিন্তা-চেতনার বাহিরে সাংবাদিকতা হয় না।রাজনীতিটা যদি হয় শোষণমুক্ত সমাজ, একটা আর্দশ ভিত্তিক সমাজ, একটা ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে -সাংবাদিকতায় সেটাই উদ্দেশ্য থাকে।’
সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতির মধ্য দিয়ে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে মানুষের সেবা আরো তরান্বিত হবে বলে দাবী ইসলামী দলগুলোর।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এএইচ এম আহসান উল্ল্যাহ। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মতো আমার সহকর্মীরা যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে – এটাকে আমি পজেটিভভাবে দেখছি। সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিতে প্রয়োগ করতে পারবে।’
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন শেখ। তিনি চাঁদপুর থেকে অনুমোদিত দৈনিক নয়া প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে নতুন করে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হলেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতার জায়গায় সাংবাদিকতা থাকবে। সেখানে পেশাদার সাংবাদিক থাকবে। আমি সেটার সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবো। অপরিদকে এমপি সাহেব একজন আইন সভা ও বাজেটের জন্য সদস্য হবেন। দুই জায়গা থেকে পৃথকভাবে জনকল্যাণমুখী কাজ করা সম্ভব। ‘
এই আসনে আওয়ামিলীগ-বিএনপির পালাবদলের পরিসংখ্যান থাকলেও এবার বিএনপির সামনে কৌশলী জামায়াত। সাংবাদিকতা এটা নেশা। আর রাজনীতি বড় পরিসরে সেবা করার সুযোগ বলছেন জামায়াতের প্রার্থী।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া। ৮০ দশক থেকেই লেখালেখীতে জড়িত। তিনি দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। বর্তমানে দৈনিক চাঁদপুর দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা আমার নেশা, আইনজীবী আমার পেশা। আর রাজনীতি হলো বৃহত্তর অঙ্গনের একটা সেবা।’
অপরদিকে বিজয়ী হলে নদী মাতৃক চাঁদপুরকে একটি নান্দনিক শহর গড়ে তোলার স্বপ্ন আঁকছেন বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদ আহম্মেদ। তিনি ১৭ বছর ধরে দলের হাল ধরেছেন। মামলা-মোকদ্দমায় নেতাকর্মীদের সামলে রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাঁদপুর সম্পর্কে ভালো অবগত আছেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চাঁদপুর নিয়ে অনেক স্বপ্ন। চাঁদপুরকে মডেল ও নান্দনিক পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
চাঁদপুর-৩ আসনে ভোট কেন্দ্র ১শ ৬৫ টি। মোট ভোটার ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩শ ৩১জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৭শ ১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬শ ২৮ জন। এছাড়াও এখানে লড়ছেন জাকের পার্টির নুরুল ইসলাম ও খেলাফতে মজলিসের তোফায়েল আহমেদ।








