
হাজীগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আওয়ামীলীগ নেতা মনির হোসেন নিহত
Link Copied Successfully!

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত আওয়ামীলীগ নেতা মনির হোসেন মনা (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হলেও বুধবার সন্ধ্যায় নিহত মনির হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রকিব।
মাথায় ১৯ সেলাই নিয়ে টাকার অভাবে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে না পারায় সোমবার বাড়ীতে নেয়া হয় মনির হোসেনকে। মঙ্গলবার রাতে মাথা ব্যাথার যন্ত্রণার পর বুধবার সকালে মারা যান হরিপুর গ্রামের এই আওয়ামীলীগ নেতা।

সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথকভাবে হাজীগঞ্জ থানায় দুইটি ও চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই সূত্রমতে, গেলো ৩০ নভেম্বর রাতে উপজেলার ৯ নং গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে ডোবায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় মনির হোসেনের ছেলে শাহজাহানও গুরুতর আহত হন। তার মাথায় ৩৫টি সেলাই করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন আব্দুল হান্নান,তার ছেলে রায়হান, মিন্টু, রাকিব, কাউয়ুম, মিজান ও ইয়াসিন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন আছে।


আহত ইয়াসিন বলেন, ‘তারা হামলা করে আমার চাচা ভাতিজাসহ সবাই কুপিয়ে আহত করে। তারপর আবার আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমরা সবাই আহত। এই অবস্থায় মামলার জামিন করাইয়া বাড়িতে আসছি। আমরা মনার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’
এদিকে ৩০ নভেম্বর সংঘর্ষের ঘটনার পর ৯ নং গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়ন বিএনপির ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে।
সভায় উপস্থিত বিএনপি নেতা নেছার আহম্মেদ জানান, হরিপুর ও তারালিয়া গ্রামের লোকজন উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় কুদ্দুছ একপক্ষের আর ইয়াছিন আরেক পক্ষের নেতৃত্বে দেন। এই ঘটনায় বাবলু ও কুদ্দুসের মামলার আসামী মনির হোসেন মনা। আর মনির হোসেনের পক্ষে হান্নানের স্ত্রীর মামলাটি থানায় না নেয়ায় চাঁদপুর আদালতে করে।
তিনি আরো জানান, সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কাজ করেছি। কোন পক্ষে মারামারিতে ছিলাম না। প্রথমে আবদুল কাইয়ুম নামের যুবলীগ কর্মী একটি ডোবায় জোরপূর্বক মাছ ধরতে যায়। পরে রাতে মাছ ধরার বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর পুলিশ সুপার আবদুর রকিব বলেন, এটি পারিবারিক ও মাছ ধরাকে নিয়ে সংঘর্ষ। রাজনৈতিক ইস্যু নয়। নিহত মনির হোসেন মনার পরিবারকে থানায় একটি অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে বুধবার বিকালে নিহত মনির হোসেন মনার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।


























