বৃষ্টির অভাবে নদীতে মিলছে না ইলিশ

পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট চাঁদপুর
আপডেটঃ মে ৫, ২০২৪ | ৫:০৪
Link Copied Successfully!

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় চার দিন আগে। তবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। ইলিশ সরবরাহ কম থাকায় চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে এখনও জমে ওঠেনি বেচাকেনা। অল্প কিছু ইলিশ ঘাটে এলেও তার দাম আকাশছোঁয়া। গতকাল শনিবার সকালে বড়স্টেশন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা বলছেন, গত বছর এই সময় প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে বেচাকেনা হতো। এবার প্রতিদিন মাত্র ১৫-২০ মণ ইলিশ সরবরাহ হচ্ছে। জেলেরা ইলিশ নিয়ে বড়স্টেশন মাছঘাটে এলে কর্মব্যস্ততা বাড়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। তবে এবার সেই চিত্র নেই। মাছ কম থাকায় হাঁকডাকও নেই আড়তে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ইলিশও আগের বছরগুলোতে আসত চাঁদপুরে। এবার দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশও কম আসছে।

ইলিশের এই আকাল সম্পর্কে জানতে চাইলে গবেষক ড. আনিসুর রহমান সমকালকে বলেন, প্রথমত, এই সময়টা ইলিশের জন্য একটা ডাল সিজন। অর্থাৎ এপ্রিল-মে মাসে সাগর ছেড়ে ওভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে নদীতে আসে না ইলিশ। ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করে জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে। দ্বিতীয়ত, যে অসহনীয় তাপদাহ চলছে, ঝড়বৃষ্টিহীন একটা পরিবেশ। এর একটা বিরূপ প্রভাব তো আছেই। সাগর থেকে নেমে আসার জন্য বৃষ্টিপাতের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ বৃষ্টি হলে নদীর পানি বাড়ে, পর্যাপ্ত স্রোত হয়, পানি ঘোলা হয় এবং ইলিশের খাদ্য বৃদ্ধি এবং নদীতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার পথ সুগম হয়। কিন্তু ওই অবস্থাটা সৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই, মৌসুমে ইলিশ এবারও ধরা পড়বে। জুনের শেষ দিক থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরা পড়বে।

রাজরাজস্বর এলাকার জেলে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘গত শুক্রবার রাইতে গেছি জাল বাইতাম, আমাগো এই গাঙ এলাকায়। কিন্তু নৌকায় ৭-৮ জন আছিলাম। ৫-৬ ঘণ্টা জাল বাইছি। পাছি মাত্র ৫ গা ইলিশ। ওজন ৫০০-৬০০ গ্রাম। এতে তেল, বাতি, মহাজনের নৌকা, জালের খরচ দিয়া আমাগো কিছুই রয় নাই। হতাশা আর কষ্ট লইয়া ফিরা আইছি। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আর মাছ শিকারে যামু না।’ একই ধরনের কথা বলেন পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকার জেলে খোরশেদ, কালাম শেখ, দেলোয়ার।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, বড়স্টেশন মাছঘাটে এখন এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায়। আর ৫০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৩০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। তাও এই ইলিশের ৯০ ভাগই নোয়াখালী, হাতিয়া অঞ্চলের। বড়স্টেশন মাছঘাট ছাড়া চাঁদপুরের সাধারণ কাঁচাবাজারগুলোতে নদীর অন্যান্য মাছের দেখা মিললেও ইলিশ নেই। এসব বাজারের বিক্রেতারা বলেন, চড়া দামে ঘাট থেকে ইলিশ কিনে বাজারে বিক্রি করতে কষ্ট হয় তাদের। কারণ এতো টাকা দিয়ে ইলিশ কেনার মতো ক্রেতা খুবই কম।

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
৪০–৫০ বছর পর ওয়ারিশি সম্পত্তির দাবি, মামলা চলাকালেই ভবন নির্মাণের অভিযোগ আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ২২ জন কিউআর কোডে লেনদেনে কোনো ফি লাগবে না: অর্থমন্ত্রী চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ নেতা ফরিদগঞ্জে মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত চাঁদপুরে কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড পুলিশ পরিচয়ে চালককে ফ্ল্যাটে আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ, আটক ৪ নারী কচুয়ায় ২৪ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি আটক জুলাই গণহত্যার দুই মামলায় আসামি পটুয়াখালী নদীবন্দরের কর্মকর্তা, জানে না কর্তৃপক্ষ মতলব উত্তরে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ ও অনুদানের চেক প্রদান কচুয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব মতলব পৌরসভায় রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ইউএনও ২৮ হাজার টাকার শাড়ি প্রতারণার মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা চাঁদপুরে রাতে ঘুরাঘুরি করায় ৪৯ কিশোর আটক কুয়েত প্রবাসী খোকন পাটওয়ারীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন মিয়ানমারের রাখাইনে বিমান হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচনে তৃতীয় চাঁদপুরের হোসনে আরা মতলব পৌরসভার সমন্বয় কমিটির (টিএলসিসি) সভা