চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় চার দিন আগে। তবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। ইলিশ সরবরাহ কম থাকায় চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে এখনও জমে ওঠেনি বেচাকেনা। অল্প কিছু ইলিশ ঘাটে এলেও তার দাম আকাশছোঁয়া। গতকাল শনিবার সকালে বড়স্টেশন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা বলছেন, গত বছর এই সময় প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে বেচাকেনা হতো। এবার প্রতিদিন মাত্র ১৫-২০ মণ ইলিশ সরবরাহ হচ্ছে। জেলেরা ইলিশ নিয়ে বড়স্টেশন মাছঘাটে এলে কর্মব্যস্ততা বাড়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। তবে এবার সেই চিত্র নেই। মাছ কম থাকায় হাঁকডাকও নেই আড়তে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ইলিশও আগের বছরগুলোতে আসত চাঁদপুরে। এবার দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশও কম আসছে।
ইলিশের এই আকাল সম্পর্কে জানতে চাইলে গবেষক ড. আনিসুর রহমান সমকালকে বলেন, প্রথমত, এই সময়টা ইলিশের জন্য একটা ডাল সিজন। অর্থাৎ এপ্রিল-মে মাসে সাগর ছেড়ে ওভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে নদীতে আসে না ইলিশ। ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করে জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে। দ্বিতীয়ত, যে অসহনীয় তাপদাহ চলছে, ঝড়বৃষ্টিহীন একটা পরিবেশ। এর একটা বিরূপ প্রভাব তো আছেই। সাগর থেকে নেমে আসার জন্য বৃষ্টিপাতের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ বৃষ্টি হলে নদীর পানি বাড়ে, পর্যাপ্ত স্রোত হয়, পানি ঘোলা হয় এবং ইলিশের খাদ্য বৃদ্ধি এবং নদীতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার পথ সুগম হয়। কিন্তু ওই অবস্থাটা সৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই, মৌসুমে ইলিশ এবারও ধরা পড়বে। জুনের শেষ দিক থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরা পড়বে।
রাজরাজস্বর এলাকার জেলে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘গত শুক্রবার রাইতে গেছি জাল বাইতাম, আমাগো এই গাঙ এলাকায়। কিন্তু নৌকায় ৭-৮ জন আছিলাম। ৫-৬ ঘণ্টা জাল বাইছি। পাছি মাত্র ৫ গা ইলিশ। ওজন ৫০০-৬০০ গ্রাম। এতে তেল, বাতি, মহাজনের নৌকা, জালের খরচ দিয়া আমাগো কিছুই রয় নাই। হতাশা আর কষ্ট লইয়া ফিরা আইছি। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আর মাছ শিকারে যামু না।’ একই ধরনের কথা বলেন পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকার জেলে খোরশেদ, কালাম শেখ, দেলোয়ার।
জানা গেছে, বড়স্টেশন মাছঘাটে এখন এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায়। আর ৫০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৩০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। তাও এই ইলিশের ৯০ ভাগই নোয়াখালী, হাতিয়া অঞ্চলের। বড়স্টেশন মাছঘাট ছাড়া চাঁদপুরের সাধারণ কাঁচাবাজারগুলোতে নদীর অন্যান্য মাছের দেখা মিললেও ইলিশ নেই। এসব বাজারের বিক্রেতারা বলেন, চড়া দামে ঘাট থেকে ইলিশ কিনে বাজারে বিক্রি করতে কষ্ট হয় তাদের। কারণ এতো টাকা দিয়ে ইলিশ কেনার মতো ক্রেতা খুবই কম।