
যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ১০ আসামীর জামিন না মঞ্জুর, চেয়ারম্যান’সহ তিনজন জেল হাজতে
Link Copied Successfully!

মতলব উত্তরে যুবলীগ নেতা বাবু হত্যা মামলায় ৩ ইউপি মেম্বার’সহ ১০ আসামীর জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মিজান সহ তিন ইউপি সদস্য জেল হাজতে রয়েছে।
গতকাল সোমবার (৭ আগষ্ট) সকালে যুবলীগ নেতা মোবারক হোসেন বাবু হত্যা মামলায় মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ জন ইউপি মেম্বার সহ ১০জন আসামি আত্মসমর্পণ করলে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন চাঁদপুরের আদালত।
গেলো ১৭ জুন মোবারক হোসেন বাবু’কে গুলি করে হত্যার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে উচ্চ আদালত কর্তৃক আগাম জামিনে ছিলেন তারা। গতকাল সোমবার (৭ আগষ্ট) সকালে ১০ জন আসামী জামিন প্রার্থনা করলে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন আদালত।
মোবারক হোসেন বাবু হত্যা মামলার প্রধান আসামী কাজী মিজানুর রহমান এখনো জেল হাজতে রয়েছে। গতকাল আত্মসমর্পণ করে জামিন নামঞ্জুর হওয়া আসামীরা হলেন কাজী জাকির হোসেন, ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন তপাদার, ইকবাল হোসেন জয়, ইউপি সদস্য শাহাদাত বেপারী, মুক্তার হোসেন, বোরহান সরকার, আরিফ ছৈয়াল, হুমায়ুন চোকদার, জুয়েল, ইউপি সদস্য আল আমিন ।
উল্লেখ্য, এ রিপোর্ট লেখা পযন্ত মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান সহ ঐ পরিষদের তিন জন ইউপি সদস্যকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে গত ১ আগষ্ট উক্ত মামলায় বাবুল মেম্বার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পরদিন সকালে মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমানসহ ৭জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (১৯জুন) তাদেরকে পুলিশ আদালতে পাঠালে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে কাজী মিজান আটক হওয়ার খবরে স্থানীয় মোহনপুরে তার প্রতিপক্ষরা তাকে’সহ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং বিক্ষোভকারীরা কাজী মিজানের কুশ পুত্তলিকা দাহ করে। রোববার (১৮জুন) সকাল ১১টায় মোহনপুর কাজী বাড়ী থেকে কাজী মিজানকে এবং ঐ এলাকার বিভিন স্থান থেকে অন্য ৬জনকে গ্রেফতার করে চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় ডিবি অফিসে নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, স্থানীয় আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ১৭জুন মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমাবেশে আসার পথে ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজানের লোকের গুলিতে নিহত হন মোবারক হোসেন বাবু। যদিও এই সংঘর্ষে ইমরান বেপারী ও জহির কবিরাজ নামের আরও ২জন গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর আগে শনিবার (১৭জুন) বিকাল ৩ টার দিকে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের সমাবেশে আসার পথে গোলাগুলি হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয় তিনজন। পরে এদেরকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে মোবারক হোসেন বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। গুরুতর আহত ইমরান বেপারী ও জহির কবিরাজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি মহিউদ্দিন বলেন, বাহাদুরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় কাজী মিজানকে প্রধান আসামি করে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরও ৩০/৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটির বাদী হয়েছে নিহতের আপন ভাই আমির হোসেন কালু। আমরা মামলার পর অভিযান চালিয়ে কাজী মিজানসহ ৭জনকে আটক করেছি। অন্য আসামীদেরকেও দ্রুত আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। মামলাটি বর্তমানে জেলা ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
নিহতের ভাই আমির হোসেন কালু বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজানের কর্মীরা মায়া চৌধুরীর সমাবেশে আসার পথে বাঁধা প্রদান করে ও প্রকাশ্যে গুলি চালায়। কাজী মিজান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম গ্রুপের নেতা। আমার ভাই এর খুনিদের ফাসি চাই।
উল্লেখ্য, এ মামলায় কাজী মিজানের ভাই কাজী হাবিব ও কাজী মতিন পলাতক রয়েছে।








