
পঞ্চগড়ে দুই ছেলের ঝগড়া থামাতে গিয়ে অচেতন মা, পরে মৃত্যু


বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া করছিলেন দুই ভাই। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁদের মা আনোয়ারা বেগম (৫৫)। ঝগড়া থামানোর জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় আকস্মিকভাবে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে ছেলেরা ঝগড়া থামিয়ে মাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান হাসপাতালে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসক আনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গিগছ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আনোয়ারা বেগম ওই এলাকার আতিয়ার রহমানের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে পরিবারের লোকজন বলছেন।
আনোয়ারার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এ কে এম তৈয়ব আবুল প্রথম আলোকে বলেন, কাল বিকেলে বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ের বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে ইউনুস আলী (৩৫) ও তাঁর ছোট ভাই আমিনার রহমানের (২৮) মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা চলছিল। তাঁদের ঝগড়া শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে সেখানে যান তাঁদের মা আনোয়ারা বেগম।


এ সময় তিনি দুই ছেলেকে ঝগড়া থামানোর জন্য বারবার বলছিলেন। একপর্যায়ে আনোয়ারা হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মকলেছুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ওই নারীকে আমরা মৃত অবস্থায় হাসপাতালে পেয়েছি। তাঁর সঙ্গে আসা স্বজনেরা বলছিলেন, তিনি বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে গেছেন। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতে চিহ্ন ছিল না। ইসিজির মাধ্যমে আমরা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তবে ময়নাতদন্ত বা অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া জরুরি বিভাগে ওই মুহূর্তে দেখে তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা কঠিন।’
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের প্রাথমিক সুরতহাল করেছে। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, আনোয়ারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। তাঁর দুবার অস্ত্রোপচার হয়েছিল, সেই সঙ্গে তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত ছিলেন। হার্ট অ্যাটাকে আনোয়ারার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক সুরতহালে তাঁর লাশের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। তবে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই ওই নারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সূত্র:প্রথম আলো
E/N








