
চৌকি পেতে খোলা আকাশের নিচে কোটিপতি ব্যবসায়ীরা!


রাজধানীর বঙ্গবাজারের কোটিপতি ব্যবসায়ীরাও এখন ছোট চৌকি পেতে খোলা আকাশের নিচে বসেছে পোশাক বিক্রিতে। এক সপ্তাহ আগেও যে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বা গোডাউনে কোটি টাকার মালামাল তুলেছিলেন, আজ তাদের ঠাই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে কাঠের চৌকিতে।
বঙ্গবাজারের পোড়া মার্কেটটির ধ্বংসস্তূপ সড়িয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শেষে ইট বিছিয়ে অস্থায়ীভাবে দোকান বসানোর উপযোগী করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। প্রত্যেক ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৫ ফুট আয়তনের একটি কাঠের চৌকির দোকান। সেখানে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা শুরু করেছেন বেচা-কেনা। তবে অনেকেই বিভিন্ন কারণে এখনও চৌকি পেতে বসতে পারেননি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নাসিম ব্যাপারী বলেন, তাদের পরিবারের ৬টি দোকান ও গোডাউনে ৫ কোটি টাকার বেশি মালামাল মজুদ করা হয়েছিল। আগুনে সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে হতাশায় দিন কাটছে তার।


নাসিম ব্যাপারী আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বল্প পরিসরে হলেও ব্যবসায়ীদের বসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার এই পদক্ষে প্রশংসার দাবিদার। তবে এই গরমে খোলা আকাশের নিচে চৌকিতে বসে বেচাকেনা করাটা অত্যন্ত কঠিন।
আজ বুধবার (১২ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে বঙ্গবাজারে চৌকি বসিয়ে অস্থায়ী পোশাক মার্কেট উদ্বোধন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দুই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মেয়র বলেন, আমরা এই প্রতিকূলতার মধ্যে বলেছিলাম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের এই ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায় আবার ফিরে আসতে পারবে। সেই লক্ষ নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকলের সহযোগিতায় আমরা তা করতে সক্ষম হয়েছি।
মার্কেট সমিতির সদস্য আব্দুর রহমান জানান, সকল ব্যবসায়ীদের সমানভাবে চৌকি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। বঙ্গবাজারে যাদের চারটি দোকান ছিল তারা দুইটি চৌকি বসাতে পারবে, যাদের দুটি ছিল তারা একটি চৌকি বসিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারবে। তবে জায়গা কম থাকায় এখানে সবাইকে হয়তো চৌকি বসানোর মতো স্থান দেওয়া যাবে না। সরকারের উচিত বিকল্প আরো কিছু স্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া।
পোশাক গোডাউন বা দোকান মালিকদের জন্য অস্থায়ীভাবে ব্যবসা করার ব্যবস্থা করা হলেও সেখানে দর্জিদের কোনো ঠাই হয়নি। এখন পর্যন্ত একটি চৌকিও বসাতে পারেননি তারা। কেননা কোনো তালিকাতেই নাকি তাদের নাম নেই। উদ্বোধনের দিন সকালে বঙ্গবাজার অস্থায়ী মার্কেটের সামনে ব্যানার নিয়ে সকলের সহযোগিতা চান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা দর্জি শ্রমিকরা।
দর্জি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, দোকান মালিকদের ব্যবসা করার ব্যবস্থা হলেও আমাদের কোনো ব্যবস্থা এখনও হয়নি। এই মার্কেটেই আমরা ব্যবসা করতাম। তবে এখন আমাদের নিয়ে কেউই ভাবছে না। কেউই আমাদের কোনো অনুদান দিচ্ছে না।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
E/N








