
কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে ভোট ১৫ জুন


কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এবং ২০১টি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে ১৫ জুন ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে তফশিল ঘোষণা করেছে ইসি। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ মে, যাচাই-বাছাই ১৯ মে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে এবং প্রতীক বরাদ্দ ও আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু ২৭ মে।
সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশনের দ্বিতীয় সভায় এসব নির্বাচনের তফশিল চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার তফশিল ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ ১৬ মে শেষ হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের এক মাস পর ১৫ জুন এ সিটিতে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো। সোমবার সিইসির সভাপতিত্বে কমিশনের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চার কমিশনার, ইসি সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ সভা চলে। সভাসূত্রে জানা যায়, সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলা, ৬টি পৌরসভা ও ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গুইমারা উপজেলা বাদে বাকি সব সাধারণ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হবে। যদিও চলমান সংলাপে বেশ কয়েকজন বক্তা নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। একই দিন আরও ৫টি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৫২টি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেগুলোয় কাগজের ব্যালটেই ভোট নেওয়া হবে।


ইসির কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও ২০১টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বর্তমান কমিশনের অধীনে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হলো। প্রথমেই প্রথা ভেঙে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরীকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলো। এ নির্বাচনে নয়জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার মধ্যে সাতজনই কুমিল্লার বাইরে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা। বাকি দুজন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, একজন নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাব করেন। তিনি বৈঠকে বলেন, কমিশন ও প্রশাসন কর্মকর্তাদের মিলিয়ে একটি হাইব্রিড তৈরি করতে হবে। এর জবাবে আরেকজন নির্বাচন কমিশনার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলে ইসির কর্মকর্তাদেরই রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাব করেন। অধিকতর নিরপেক্ষতার স্বার্থে কুমিল্লার বাইরের কর্মকর্তাদের নিয়োগের প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইসির সচিবালয়ের কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়।
কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ না দিয়ে নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে ফেনী, চাঁদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের মিরেরসরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের আগে সেখানকার প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন করে মূলত-রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা নির্বাচন পরিচালনা করেন। বাকি সব কর্মকর্তা তাদের অধীনে কাজ করবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা যেভাবে গাইড করবেন, কর্মকর্তারা সেভাবে কাজ করবেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্বাচন প্রভাবিত করবেন বলে আমরা মনে করছি না।
সচিব বলেন, সাধারণ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। উপনির্বাচনগুলোয় কাগজের ব্যালটে ভোট হবে। এসব নির্বাচনে আগেও কাগজের ব্যালটে ভোট হয়েছিল। তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম কাস্টমাইজেশনের সময়ে প্রার্থীদের প্রতিনিধি হিসাবে যারা কারিগরি বিশেষজ্ঞ, তারা সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। সংলাপে অনেক বক্তা ইভিএম পরিহার বা আস্থা অর্জনের আগে তা ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে, এরপরও ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার সংলাপকে ব্যাহত করবে না। এবারই প্রথম সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইভিএম কাস্টমাইজেশন করার সময়ে প্রার্থীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশা করে সব দলই যাতে এ সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচন কমিশন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিশ্বাস করে। তারা চায় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশন কথা বলবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এ বিষয়ে কমিশনে আলোচনা হয়নি। এটি নির্বাচন কমিশনাররা ভালো বলতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান, যুগ্মসচিব ও পরিচালক (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা : সোমবার কমিশন ছয়টি উপজেলা নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছে। সেগুলো হচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা, দিনাজপুরের খানসামা, নাটোরের লালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও নেত্রকোনার মদন উপজেলা। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকি পাঁচটির মধ্যে দুটিতে চেয়ারম্যান ও তিনটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে।
পৌরসভা : ছয়টি পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন হবে। সেগুলো হচ্ছে গোপালগঞ্জ সদর ও মুকসুদপুর, সিলেটের বিয়ানীবাজার, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ সদর। এসব পৌরসভায় ইভিএমে ভোট হবে। এছাড়া দুটি পৌরসভায় উপনির্বাচন রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ : কমিশন সভায় ৩১টি জেলার ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়। এগুলোয়ও ইভিএমে ভোট হবে। এছাড়া ৫২টি ইউনিয়ন পরিষদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেগুলোয় কাগজের ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
E/N



























