
কুমিল্লার সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার হোটেলে অসহায়দের ফ্রী খাওয়ানো হয়


করোনাকালীন সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ফ্রী খাওয়ানো হয় কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ‘মামা-ভাগিনা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’। এ হোটেলে হাফেজ, আলেম ও অসহায়দেরকে ফ্রী খাওয়ানো হয় হোটেলটিতে এ উদ্যোগ করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকার। হোটেলটির পরিচিতির কারণ হলো এখানে টাকা ছাড়াই প্রতিদিন তৃপ্তি সহকারে খাওয়ানো হয় হাফেজ ও অসহায়দের। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
হাফেজদের পাশাপাশি হোটেলটিতে খেতে আসা আলেম-ওলামা ও অসহায়দের কাছ থেকেও নেওয়া হয় না টাকা। ‘হাফেজদের জন্য খাবার ফ্রি’ লিখে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে হোটেলের সামনে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের পাশে চান্দিনার বাগুর বাসস্ট্যান্ডে ‘মামা-ভাগিনা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের’ অবস্থান। প্রায় চার বছর আগে কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকার ও তার ভাগনে মো. অনিক যৌথভাবে হোটেলটি প্রতিষ্ঠা করেন
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লিটন সরকার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গরিব ও অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করে আসছেন। কারও সমস্যার কথা শুনলে তিনি সবার আগে এগিয়ে যান। আর্থিক ও সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন।
শুধু খাওয়ানো নয়, করোনাকালীন কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃত ব্যক্তিদের সৎকারের ব্যবস্থা করেছেন লিটন সরকার। এসব কাজে অংশগ্রহণ করায় এলাকার লোকের মুখে মুখে তার নাম।


লিটন সরকা বলেন, ‘আমার বোনজামাই এবং ভাগনেকে নিয়ে চার বছর আগে হোটেলটি চালু করি। রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে হোটেলে বসা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ সময় ভাগনে হোটেল পরিচালনা করে।’
অসহায় ব্যাক্তি ও হাফেজদের জন্য ফ্রিতে খাওয়ার ব্যবস্থা করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এক ছেলে ও এক মেয়েকে হাফেজ বানাতে মাদরাসায় ভর্তি করিয়েছি। এ সুবাদে আলেমদের সঙ্গে আমার ওঠাবসা এবং তাদের জন্য ভালোবাসা তৈরি হয়। চার পাঁচ মাস আগে ভাগনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই হাফেজদের ফ্রিতে খাওয়ানো হবে। এরপর হোটেলের সামনে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেই।’
এ পর্যন্ত প্রায় চার হাজার হাফেজ, আলেম ও অসহায়দের ফ্রিতে খাইয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। লিটন সরকার বলেন, এজন্য যে আমার হোটেলে লোকসান হচ্ছে তা নয় আল্লাহর মেহেরবানী ও মানুষের দোয়ার কারণে দিন দিন হোটেলের বিক্রি ও ক্রেতা বাড়ছে। যারা ভাল খাবার খেতে পারেন না তাদের জন্য হৃদয়ের তাগিদ থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যতদিন হোটেলটি চালু থাকবে ততদিন আমাদের এ সেবাও চালু থাকবে।
তিনি আরও বলেন শুধুমাত্র হাফেজ নয় অসহায়দের জন্য আমাদের মামা ভাগিনা হোটেলের এ কার্যক্রম চালু থাকবে।



























