
শাহরাস্তিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি


চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে শতাধিক কৃষক। এ বিষয়ে কৃষকদের পক্ষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার পৌর ৯নং ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামে ঘটে। জানা যায়, ওই গ্রামের পূর্ব মাঠে প্রায় ২০ একর জায়গা রয়েছে। ওই জায়গায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শতাধিক কৃষকের পাকা ধান পানিতে বন্দি রয়েছে। যে কারণে তাদের দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বর্তমান মৌসুমের ধান কাটার পর পরবর্তী মৌসুমের ধানি জমি তৈরি করতে না পারলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে ১৬ নং মেহের দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল হক বলেন, ২০ একর জমিতে যে পরিমাণ ধান রয়েছে তা কৃষকরা ঘরে তুলতে ব্যর্থ হলে ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা। এছাড়া তিনি আরও বলেন, আগামী মৌসুমে ধান চাষ করতে না পারলে ক্ষতির পরিমাণ দশগুণ গিয়ে দাঁড়াবে। এমতাবস্থায়, কৃষকদের এমন ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদসদস্যের নজরদারিতে কামনা করেন তিনি।


শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, আমার এই ওয়ার্ডের পূর্ব মাঠে শ’খানেক কৃষক রয়েছেন যারা এই মাঠে ধান চাষ করে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। যাদের কারণে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি আমি তাদের অনুরোধ করবো তারা যেন অচিরেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে কৃষকদের বাঁচার সুযোগ করে দেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয় আমাদের অভিভাবক। আমি আমাদের অভিভাবকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করলে তারা এমন ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী অনুযায়ী কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের বাঁচাতে এমপি মহোদয়ের সুনজর কামনা করেন তিনি।
কৃষকদের পক্ষে আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের এই মাঠের উপর আমাদের রিজিক নির্ভর করে। বিগত ১৫ বছর পূর্বে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব হাবিব উল্লাহ মজুমদার উক্ত মাঠের উত্তর-পশ্চিম কর্নার বাঁধাই করে মাদ্রাসা নির্মাণ করতে চেয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে কোন মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়নি। যে কারণে ওই স্থানটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাথমিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বাত্তলা মাইজের বাড়ির মৃত আলী আশরাফের পুত্র আব্দুর রশিদ ও ইমরান হোসেন ফারুক ওই স্থান দিয়ে পানি নিষ্কাশনে সরাসরি বাধা প্রয়োগ করছেন।
এছাড়া ওই মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে দেয়া পানি নামার পাইপটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের প্রাণের দাবী সকল প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা উপড়ে দিয়ে আমাদের ধান ও পরবর্তী মৌসুমে ধান রোপনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বিগত সময় এই মাঠের পানি নিষ্কাশিত হয়েছে বর্তমানে পানি নিষ্কাশনে জায়গাগুলোতে মাছের ঘেড় ও নতুন ঘর বাড়ি তৈরি করার কারণেই এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এই জলবদ্ধতা থেকে কৃষকদেরকে রক্ষা করতে হলে পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর এই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের হস্তক্ষেপ একান্ত জরুরি বলে তারা মনে করেন।
এ সময় কৃষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শফিকুর রহমান মোল্লা, সুলতান আহমেদ মোল্লা, সাহিদুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ জাকির হোসেন, হারুনুর রশিদ, দুলাল মিয়া, আব্দুল ওহাব, আব্দুল মালেক, নুরুজ্জামান, মাওলানা হুমায়ুন কবির, মোঃ মামুন মাস্টার, আব্দুস সাত্তার, রেদোয়ান হোসেন, মোশারফ হোসেন, হাজী আব্দুর রশিদ, দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী, দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী প্রমুখ।
E/N


























