
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক হাজীগঞ্জে বাবার কবরের পাশে শায়িত


কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল মালিক ব্রেন স্ট্রোক করে চিকিৎসাধিন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর এবারকেয়ার হাসপাতে মারা যান। বাদ যোহর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পুলিশ সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে গার্ড অফ অর্নার প্রধান ও ডিআইজি তার কপিনে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন।
বৃহস্পতিবার বাদ আছর তার কর্মস্থল কুমিল্লায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে নিয়ে আসা হয় হাজীগঞ্জে।
আজ বাদ জুম্মা তার পত্রিক এলাকায় হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশগ্রাহন করেন চাঁদপুর ৫ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সহ হাজারো মুসল্লি। জানাজা শেষে চাঁদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অফ অর্নার প্রধান করা হয়। সর্বশেষ তার নিজ গ্রাম হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং পশ্চিম বড়কুল ইউনিয়নের নাটেহরা গাজী বাড়ীর মসজিদে চতুর্থ জানাজা শেষে বীর মুক্তিযুদ্ধা প্রয়াত আবুল কালাম বাবার কবরের পাশে শায়িত করা হয়।


সাইফুল মালিক ৩৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী,দুই সন্তান, মা, তিন ভাই ও এক বোনসহ বহু গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার এক মাত্র ছেলে ইলহান মালিকের বয়স ১০ ও একমাত্র মেয়ে আয়রা মালিকের বয়স ৫ বছর। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারস্থ ট্রাক রোডের স্থায়ী বাসিন্ধা ও মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের সন্তান। তাদের আদি নিবাস হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহরা গ্রামে।
মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করেন। প্রথমে তাকে কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া সাইফুল মালিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২৮তম ব্যাচের শিার্থী ছিলেন। ২০০৫ সালে তিনি প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ৩৪তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্মজীবনে তিনি একজন সৎ, বিনয়ী, মৃদুভাষী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে অতি আপনজন ছিলেন।
সাইফুল মালিকের মৃত্যুর খবর এসে পোঁছলে এলাকাতে শোকের ছায়া নেমে আসে ও মরহুমের ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে হাজার হাজার জনকে শোক জানাতে দেখা গেছে।








