
ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু


রাজধানী ঢাকায় চলন্ত রিকশায় ছিনতাইকারীর ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়ার সময় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া সোহেলি ইসলাম (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি মারা যান। নিহত সোহেলি ইসলাম এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস-এর মেডিকেল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে গত শনিবার রাতে মেয়েকে নিয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন সোহেলি। রোববার ভোরে গাবতলীতে নেমে তিনি রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর সামনে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়।
এতে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনায় তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং মাথার পেছনে মারাত্মক আঘাত লাগে। কান দিয়ে রক্তক্ষরণও শুরু হয়।


প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরে একই দিন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকায় নানাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্বজনরা জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদের পর একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া আলমকে নিয়ে সংগ্রাম করে জীবন কাটাচ্ছিলেন সোহেলি। কয়েক বছর আগে বাবা-মাকেও হারান তিনি। মায়ের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে একমাত্র মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
সোহেলির ভগ্নিপতি তরিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রথমে আশপাশের মানুষের তেমন সাড়া না মিললেও পরে রিকশাচালক ও স্থানীয় একজনের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণেই শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শোক কাটিয়ে উঠেই তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।



























