
নীল কষ্টের প্রেম – বিশ্বকাপ এলে নীল-সাদা জার্সি


১৯৯৮ সাল। গ্রামে শুধু আমাদের ঘরেই টিভি। জিরজির- কাঁপাকাঁপা দৃশ্য। ফুটবল প্রেমীরা ঘরের ভিতর কানায় কানায় ভর্তি।
টিভির সামনে বসা ছোট আমি। আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড।
বাতিস্তুতার পায়ে বল। গোলের গন্ধ। হঠাৎ রেফারির বাঁশি। লাল কার্ড। ১০ জনে নেমে গেল প্রিয় দল। টাইব্রেকারে হার।
সেদিন কাঁদিনি। কিন্তু বুকের ভেতর একটা নীল কষ্ট পুষে নিলাম। সেই কষ্টটাই প্রেম হয়ে গেল। তারপর থেকে প্রতি চার বছর পর ঘুম হারাম। ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বুক ধুকপুক। পতাকা টানানো, রাত জাগা, বন্ধুদের সাথে তর্ক।
হারলে দিনটাই মাটি। জিতলে মনে হয় বিশ্ব জয় করেছি।


আর তারপর এলো মেসি।
একটা ছেলে। বাঁ পায়ের জাদু। নিঃশব্দ যোদ্ধা।
ওর চোখে আমি নিজের হেরে যাওয়া দেখতাম। ওর কান্নায় আমার কান্না। ২০১৪-এর ফাইনাল। হিগুয়াইনের মিস। আবার সেই নীল কষ্ট। ভেবেছিলাম, বুঝি আর হবে না।
কিন্তু বিশ্বকাপ প্রেম এমনই। ছেড়ে যাওয়া যায় না।
বার বার আঘাত খেয়েও ফিরে আসতে হয়।
২০২২, কাতার। ফাইনালের রাত। ঘুম নাই, নিঃশ্বাস আটকানো।
এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক। ৩-৩। টাইব্রেকার।
মার্টিনেজের হাত। মন্টিয়েলের শেষ শট।
আর তারপর… মেসি কাপটা চুমু খেল।
সেদিন বুঝলাম, ১৯৯৮-এর সেই লাল কার্ডের কষ্টটা বৃথা যায়নি।
২৪ বছরের অপেক্ষা, কান্না, গালি, প্রার্থনা – সব সার্থক।
বিশ্বকাপ মানে শুধু খেলা না।
এটা একটা প্রেমপত্র। যেখানে প্রতি চার বছর পর আমরা নতুন করে প্রেমে পড়ি, কষ্ট পাই, আবার বাঁচি।
আর্জেন্টিনা আমার দল না, আর্জেন্টিনা আমার কৈশোর, আমার যৌবন, আমার না বলা কান্না।
বাতিস্তুতার লাল কার্ড দিয়ে শুরু, মেসির সোনালী কাপ দিয়ে পূর্ণতা। এবার আরেক ধাপ। প্রত্যাশা মেসির মতো আর্জেন্টাইন দলে আসুক আরেকটি নতুন যাদুকরী খেলোয়াড় । আসুক আরেকবার মেসি নুড়ে নুড়ে হাতে নিয়ে উঁচু করে ধরুক বিশ্বকাপের ট্রফিটা।


















