
চাঁদপুরের কচুয়ায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্র্যাক ফিশারিজের প্রশিক্ষণ কর্মশালা
প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষে খামারিদের দক্ষতা বাড়াতে দিনব্যাপী আয়োজন, অংশ নেন অর্ধশতাধিক মৎস্যচাষী


চাঁদপুরের কচুয়ায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং খামারিদের দক্ষ করে তুলতে দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কচুয়া উপজেলার দারচর বাজারে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজ।
মৎস্য খাতে আমূল পরিবর্তন আনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত এ কর্মশালায় কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক অগ্রগামী মৎস্যচাষী অংশগ্রহণ করেন।


প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আধুনিক পদ্ধতিতে পুকুর প্রস্তুতি, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, প্রোবায়োটিক প্রয়োগ, এয়ারেটরের সঠিক ব্যবহার এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও মানসম্মত পোনা নির্বাচন, সুষম খাদ্যের সঠিক বণ্টন, মাছের সাধারণ রোগ প্রতিরোধ এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কেও চাষীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মোঃ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ০৬নং কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আকতার হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম।
প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের লেকচারার তাজিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক ফিশারিজের অফিসার সেলস্ জয়ন্ত কুমার সাহা।
তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী মৎস্যচাষীদের জন্য ছিল বাস্তবভিত্তিক হাতে-কলমে শেখার সুযোগ। উন্মুক্ত আলোচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাষীরা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এসময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজ জানায়, দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামারিদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের উন্নত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের প্রশিক্ষণ মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


















