
গৌড়েশ্বর সালেহ নূরানী মাদরাসাকে নিয়ে অপপ্রচার, তদন্তে সত্যতা মেলেনি


চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার গৌড়েশ্বর সালেহ নূরানী মাদরাসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারের অভিযোগের সত্যতা পুলিশি তদন্তে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
অপপ্রচারের ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আবু বক্করকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে মাদরাসার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন। এছাড়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ইমাম সাহেবের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং মাদরাসা কমিটির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার বিষয়ও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে বিষয়গুলো অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগেরও সত্যতা মেলেনি বলে তদন্তে উঠে আসে।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও আলোচনা সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তারা মাদরাসার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, গৌড়েশ্বর সালেহ নূরানী মাদরাসাকে কেন্দ্র করে একটি অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আইনগতভাবে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অপপ্রচারকে কেন্দ্র করে এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আবু বক্কর বলেন, আমাকে জড়িয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ গুজব। কিছু লোক আমাকে অপমান করার পাশাপাশি আমার মাধ্যমে মাদরাসাটি বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছিল। অনেক আগে থেকেই শাহাদাত, ইমান, শরীফ, ইব্রাহিম, ইসমাঈল, জিহাদ কবিরাজ, কামাল কবিরাজসহ আরও কয়েকজন মাদরাসাটি বন্ধ করার চেষ্টা করে আসছিল। তারা আমার মাধ্যমে সেই কাজটি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। যারা এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে মাদরাসার সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, গৌড়েশ্বর সালেহ নূরানী মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ, তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করেছেন। ভবিষ্যতে কেউ যেন মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাই। পাশাপাশি মাদরাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।








