হাসান মিয়াজীকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ‘প্রশাসক’ হিসেবে দেখতে চায় পৌরবাসী

পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট চাঁদপুর
আপডেটঃ মার্চ ১৬, ২০২৬ | ১০:০৮
Link Copied Successfully!

দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে ‘প্রশাসক’ নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রশাসনিক ও উন্নয়নের কার্যক্রমে গতি আনতে সরকার দলীয় নেতাদের সিটি কর্পোরেশনে ও জেলা পরিষদে ৫৩ জন প্রশাসককে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে ‘প্রশাসক’ নিয়োগ পর গুঞ্জন উঠেছে দেশের সকল পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করবে সরকার। এমন গুঞ্জনে আলোচনা চলছে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। তাদের দাবী, র্দুদিনে দলের ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় যেন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সহ-সভাপতি, রাজনেতিক প্রতিহিংসার শিকার, কারা-নির্যাতিত, আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবীদ মোহাম্মদ হাসান মিয়াজীকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দেখতে চায় দলীয় নেতাকর্মী ও পৌরবাসী।

বিজ্ঞাপন

কথা হয়, পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির একাধীক কর্মী ও সমর্থকের সাথে। তারা বলেন, আওয়ামী সরকারের খামখেয়ালীপনা ও গত ১৮ মাস উন্নয়ন বঞ্চিত হাজীগঞ্জ পৌরসভা। তাই, পৌরসভার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রশাসক হিসেবে হাসান মিয়াজীকে দেখতে চাই। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা জোর দাবি জানাই।

এছাড়া দলের বিভিন্ন পদে থাকা দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতার সাথে কথা হলে তারা জানান, আওয়ামী সরকারের পতনের পর প্রায় ডজনখানেক নেতা ও তাদের সমর্থকরা হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যাম ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, পেষ্টুন সাঁটিয়ে তাদের প্রার্থীতার জানান দিয়েছেন।

তারা বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন র্দুদিনে অবদান রেখেছেন। মামলা-হামলার শিকার এবং আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান থাকলেও পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে আমরা পারিবারিক, সামাজিক, আর্থিক, রাজনৈতিক ও মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন একজনকে নেতাকে দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে কারা-নির্যাতিত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী এগিয়ে রয়েছেন বলে তারা জানান।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, হাসান মিয়াজী হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি একাধারে ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবীদ। সর্বোপরি তিনি মানবিক গুণাবলির বৈশিষ্ট্যের অধিকারি একজন মানুষ। ১৯৯৩ সালে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম শুরু করেন। সেই থেকে ব্যবসার মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

তাঁর প্রতিষ্ঠানের অধীনে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগে হয়েছে। তিনি তাঁর আয়ের সিংহভাগ মানবহিতৈষী কাজে ব্যয় করেন। এর মধ্যে তিনি তাঁর ব্যক্তি উদ্যোগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অস্বচ্ছল ও দরিদ্র পরিবার’সহ বিএনপির দলীয় অসহায় নেতাকর্মীদের আর্থিক সহযোগিতা, বসতঘর ও রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির) ও ধর্মীয় কাজে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন এবং এখন পর্যন্ত তিনি এসব মানুষের পাশে আছেন।

মোহাম্মদ হাসান মিয়াজীর প্রশংসনীয় সামাজিক, মানবিক ও রাজনৈতিক কাজের কারণে তিনি কিছু সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর চক্ষুশূল হয়ে পড়েন। ২০২৪ সালে বিএনপির অবরোধ চলাকালীন সময়ে তিনি ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসেন এবং দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করার সময় তৎকালীন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

ওই সময়ে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার না দেখিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের প্ররোচনায় তাকে ডাবল মার্ডার মামলার আসামি করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। অথচ হত্যাকাণ্ডের শিকার বৃদ্ধ উত্তম চন্দ্র বর্মণ ও তার স্ত্রী কাজলী রানী বর্মণ হত্যা মামলার এজাহারে হাসান মিয়াজীর নাম ছিলো না। তারপরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের কথায় তাকে এই ডাবল মার্ডার মামলা’সহ একাধিক মামলার আসামি করা হয়।

এই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন। অথচ চুরি সংক্রান্ত ঘটনায় এ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্ত রিপোর্টে প্রতিয়মান হয় এবং পরবর্তীতে সরকার পতনের পর নিরপেক্ষ তদন্তে তিনি ওই মামলায় বেকসুর খালাস পান।

সবশেষ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে রাজধানীর রামপুরা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় (নং-১৯(৭)২৪) হাসান মিয়াজীকে গ্রেফতার করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলার আসামি ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও নিপুন রায় চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

ওই মামলাও তিনি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতাদের সাথে জামিনে বের হয়ে আসেন। এর আগে ২০১৩ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে হাজীগঞ্জ থানায় একটি দায়েরকৃত মামলায় (নং-২৩) তাকে আসামি করা হয়। আর এভাবেই তিনি একেরপর এক মামলার আসামি হয়ে ব্যবসায়ীক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তাই, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ত্যাগি ও দুর্দিনে নেতাকর্মী’সহ অসহায় মানুষের পাশে থাকা মোহাম্মদ হাসান মিয়াজীকে যেনো হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
মতলব উত্তরে বিতর্কিত জমিতে গণকবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ, এলাকাবাসীর আপত্তি হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় চাঁদপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বড়স্টেশন কমিউনিটির শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় চাঁদপুর নূরুল কুরআন মাদরাসার ছাত্র আবু সাঈদের বিভাগে প্রথম মতলব দক্ষিণে কম্বোবাজার ডিলার নিয়োগ ও কার্যক্রমের শুভ-উদ্বোধন ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১০৬৪ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৩২ ২৬ ঘণ্টা পর মেঘনা থেকে রবিনের মরদেহ উদ্ধার, ঘাটে স্বজনদের আহাজারি বর্জ্যের বিনিময়ে খাদ্য ও গাছ; ক্লিন চাঁদপুরের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ চাঁদপুরে জেলা পুলিশের ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্বোধন মতলব দক্ষিণে কিজুনা গ্লোবালের জাপানি ভাষা শিক্ষা শাখার উদ্বোধন ইসলামী যুব আন্দোলন কেন্দ্রীয় সভাপতি হলেন মতলবের মানসুর সাকি সৌদি আরবে নিখোঁজ ফরিদগঞ্জের প্রবাসী শাহিন, ৫ মাসেও মেলেনি সন্ধান প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে মৈশাদীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা নিলেন প্রায় তিন শতাধিক মানুষ গজরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে শাহ আলম লস্করকে সমর্থন জানালেন গ্রামবাসী মতলবে উদ্ধার হয়নি রবিন : স্বামীর সন্ধানে ঘাটে স্ত্রী, লঞ্চসহ আটক ২ লংমার্চে কেউ কেউ বক্তব্য দিয়ে ‘বাঘ’ সাজতে চান : মানিক এমপি হাজীগঞ্জ ৯০ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার পরও দোকান বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দোকান মালিক আতাউলের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জে শহীদ আল্লামা ফারুকী (রহ.) স্মৃতি মেধা বৃত্তির সনদ বিতরণ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত