
দেড়শ বছরেও হয়নি শ্রমিকদের জন্য পণ্য উঠানামার ঘাট
Link Copied Successfully!

পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার মিলনস্থলে চাঁদপুরের ব্যবসায়ীক প্রাণ কেন্দ্র পুরানবাজার। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রায় দেড়শ বছরেও হয়নি শ্রমিকদের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন। নেই পণ্য উঠানামার ঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পণ্যচুরি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পণ্যবাহী কার্গো ও ট্রলার থেকে মাথায় বস্তা নিয়ে কাঠের টুকরোতে পার হয়ে যেতে হয় গুদামঘরে। পরিবার-পরিজনের জন্য শ্রম বিলিয়ে দিতে ঝঁকিপূর্ণ এমন কাজ করতে গিয়ে ছিটকে পড়ে আহত ও নিহতের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ।
শ্রমিক আবদুর রহিম জানান, ‘আমি কাজ করতে ছিলাম। বস্তা নিয়ে পড়ে পা ভেঙ্গে যায়। প্রায় ৬/৭ বছর হয়ে গেলে। ভিতরে রড দেয়া হয়েছে। এখন অপারেশন করে টাকার অভাবে রড বের করতে পারিনি। এখন পেটের অভাবেই কাজ করছি।’
আরেক শ্রমিক হালিম তালুমকদার জানান, ‘আমি সিঁড়ি দিয়ে মাল নিয়ে নামতে গিয়ে, পিচ্ছিল হয়ে পড়ে গেলাম। মেরুদন্ডের হাঁড়ে আঘাত পাই। পড়ে যাওয়ার পর মানুষে ধরে উঠায়। ঘাটের জন্য ঠিকমতো কাজ করতে পারিনি। ’
নদীরপাড়ের ঘাটগুলোর মধ্যে ভুঁইয়ার ঘাট, খইলের ঘাট, রমনি সাহার ঘাট, দয়াময়ের ঘাট, সহেদেব সাহার ঘাট, দেওয়ান ঘাট, প্লটুনঘাট, ১০ নং ফেরীর চৌধুরী ঘাটসহ প্রায় ১০ ঘাটে উঠানামা করানো হয় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার্থে দ্রুত একটি আধুনিক মানের ঘাটসহ সমস্যাগুলো নিরসনের দাবী পুরাণবাজার উত্তর অঞ্চল গদিঘর লেবার ইউনিয়নের শ্রমিক নেতাদের।
শ্রমিক সংগঠনের নেতা বাবুল হোসেন জানান, ‘প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ করছে। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে খুব কষ্ট করতে হচ্ছে। এখানে অনেকগুলো ট্রলার আটকে থাকে। মাল উঠাতে-নামাতে সমস্যায় পড়তে হয়। ঘাটের জন্য ঠিকমতো কাজ করা যায় না। আমাদের সমস্যা হলো ঘাট নাই। আমাদের ঘাট কেউ করে দেয় না। না দেয় মালিক সমিতি, না দেয় চেম্বার অব কমার্স, না দেয় বিআইডব্লিউটিএ।
আমরা কয়েকবার চেয়েছি, কেউ ঘাট করে দেয় না। যার কারণে দিনের পর দিন অনেক লেবার মারা গেছে, বহুত লেবার পঙ্গু হয়ে ঘরে বসা আছে। কারণে বড় বড় ট্রলারে চার-পাঁচটা করে সিঁড়ি লাগিয়ে মালামাল উঠানামা করতে হয়।’
শ্রমিক তরিকুল ইসলাম জানান, ‘আমরা প্রতিদিন এখানে কাজ করি। এখানে একটা ঘাট নাই। মালিক সমিতি ও বিআইডব্লিউটিএ বারবার বলি, তারা আশ্বাস দেয়, ঘাট করে দিবে। কিন্তু এখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ভাই দুর্ঘটনায় মারা গেছে, হাত গেছে, পা গেছে। আমার কিছুই পাই না। তারপরও কোটি কোটি টাকার মাল উঠতেছে। আমরা মালিক-মাহজনদের কাছে বলার পরও ঘাট করে দেয়া হয় না।’
এদিকে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে পুরানবাজারে টার্মিনালের মতো করে একটি জেটি নির্মাণ করা গেলে সুবিধা হবে বলে জানান চাঁদপুর চেম্বার অব কর্মাস।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সচিব আবদুল মোতালেব শেখ টুটুল জানান, ‘এই যে বড় রাস্তার সামনে যদি একটা জেটি / টার্মিনালের মতো নির্মাণ করা যায়, এটা হলে সুবিধা হবে। এখানে ট্রাক আসে। পণ্য এখানে লোড হয়, আনলোড হয়। তখন শ্রমিকদের জন্য কাজ করতে সহজ হবে। কারণ বেশিরভাগ ব্যবসায়ী পুরাণবাজারে চরাঞ্চল, ফেরীঘাটের সকল ব্যবসায়ীদের সুবিধা হবে। ’
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চেম্বার অব কমার্স যদি চায়, তাদের সুবিধা অবকাঠামো দেয়ার জন্য, তাহলে তাদের দাবী পূরণে উদ্যেগ নেয়ার আশ্বাস দেন চাঁদপুর নদী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা।
বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর নদী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. বছির আলী খান জানান, ‘পুরানবাজার ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আমরা নির্দিষ্ট কাঠামো-অবকাঠামো প্লুটন এবং জেটি নির্মাণ করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লকের কারণে নির্দিষ্ট জায়গায় ও তাদের চাহিদা অনুযায়ী জায়গায় না দেয়ায় আমরা পাশ^বর্তী জায়গায় একটি প্লটুন স্থাপন করে দিয়েছি। তারা এখন তাদের সুবিধা মতো জায়গা দিয়ে মালামাল উঠানামা করছে।
তারপরও তারা যদি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চেম্বার অব কমার্স যদি চায়- তাদের সুবিধা অবকাঠামো দেয়ার জন্য, তাহলে আমরা তাদের দাবী দাবী পূরণ করে দেয়া হবে।’
২০২৩ বস্তা নিয়ে উঠার সময় পড়ে কলন্তর মিয়া ও ২০১৯ আলুর বস্তা নিয়ে পড়ে খোকন ও জাকিরসহ কয়েকজন শ্রমিকের প্রাণহানিসহ অন্তত অর্ধশত শ্রমিক হাত-পা-মেরুদন্ড ভেঙ্গে আহতের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী পুরাণবাজার উত্তর অঞ্চল গদিঘর লেবার ইউনিয়নের ।








