
মতলব উত্তরে বিলুপ্তির পথে সুগন্ধি কালিজিরা ধান
Link Copied Successfully!

কয়েক বছর আগেও মতলব উত্তরে বেশ কদর ছিলো সুগন্ধী কালিজিরা ধানের। সময়ের সাথে সাথে সেই ধান তাদের অভিজাত্য হারিয়েছে। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এই ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন এ উপজেলার প্রান্তিক কৃষক। তাছাড়া বীজের অভাব, সার, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানান কারণে হারিয়ে যাচ্ছে এ সুগন্ধী ধান। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করলে বিলুপ্তির হাত থেকে কালিজিরা ধান রক্ষা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এ উপজেলায় সুগন্ধী কালিজিরা ধানের বেশ পরিচিতি রয়েছে। গ্রামীণ জীবনে এই ধানটি ছিল এক প্রকার অপরিহার্য অংশ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এই ধানের স্থান দখলে নিয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের বিভিন্ন প্রজাতির ধান। এই ধানের চাল থেকে তৈরি হতো পিঠা-পুলি, পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ক্ষির, পায়েস, ফিরনি ও জর্দাসহ আরো সুস্বাদু মুখরোচক নানা ধরনের খাবার। কালো বর্ণের ছোটাকৃতির এই ধান কাটার সময়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি চলতো নবান্নের উৎসব। কিন্তু এ সবই এখন স্মৃতি হতে বসেছে।
কলাকান্দা ইউনিয়নের কৃষক আবু হানিফ বলেন, আগে আমন চাষের পাশাপাশি কালিজিরা ধানের চাষ করতাম। বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যেতো। এখন খরচ বেড়ে হওয়ায় এ ধানের চাষ বেশি করিনা। নিজেদের যেটুকু প্রয়োজন সেটুকুই চাষ করি। কৃষক উজ্জ্বল বেপারী বলেন, একসময় কম বেশি সবাই এ ধানের চাষ করতো। এখন আর করে না। গোটা উপজেলায় হাতেগোনা কয়েকজন কৃষক এ ধানের চাষ করে সল্প পরিসরে। এর ফলনও কম। তাছাড়া কৃষকদের বীজের সংকটও রয়েছে। কৃষি বিভাগ যদি সহযোগিতা করে তাহলে হয়তো এ ধান চাষে আগ্রহ বাড়বে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, তুলনামূলক ফলন কম হওয়ায় কৃষকরা এই ধান আবাদে দিনে দিনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। শুধুমাত্র পারিবারিক প্রয়োজনে কিছু কৃষক চাষ করে। তাও পরিমানে কম। বান্যিজিক ভাবে কোন কৃষক এ ধানের চাষ করে না। খরচ বেশি এবং লাভ কম হওয়াও কালিজিরা ধানের চাষে প্রধান অন্তরায়।








