
গৃহবধূকে তাড়াতে স্বামী ও তার পরিবারে মিথ্যা মামলার অভিযোগ
Link Copied Successfully!

হাজীগঞ্জে গৃহবধূকে তাড়াতে প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবার মিথ্যা মামলার দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়নের সুবিদপুর গ্রামের পন্ডিত বাড়িতে গেলে এ সব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী এ গৃহবধূ জিলহজ্জ্ব মুক্তা(২৩)।
ভুক্তভোগী জিলহজ্জ্ব মুক্তা জানান, গেলো ২০১৭ সালে একই এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে রায়হানের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান তাদের কোল আলো করে আসে। যার বর্তমান বয়স চার বছর। হাসিখুশি জীবন যাপন তাদের। হঠাৎ করে প্রবাসে যেতে শ্বশুর বাড়ি থেকে টাকা চান স্বামী রায়হান।
মেয়ের সুখের জন্য বাবা শহিদুল্লাহ্ সম্পত্তি বিক্রি করে রায়হানকে নগদ টাকা দেয়। প্রবাসে পাড়ি জমাতেই রায়হান আসক্ত হয় পরকীয়ায়। স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ খবর না নিয়ে প্রবাসে থেকেই সম্পর্ক বিচ্ছেদের কাগজ পাঠায় রায়হান।
বিষয়টি জানাজানির পর স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও স্ত্রীকে রাখতে নারাজ রায়হান। এরপরই রায়হানের পুরো পরিবারের নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ জিলহজ্জ্ব মুক্তা।
গেলো পহেলা জুন বৃহস্পতিবার সকালে জিলহজ্জ্ব মুক্তার শাশুড়ী মমতাজ বেগমের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে তার বাবা মেয়েকে দেখতে আসলে মমতাজ বেগম তাকে অপমান করে। পরে কৌশল অবলম্বন করে মমতাজ বেগম মারধরের অভিযোগ এনে চাঁদপুর আদালতে চারজন’কে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করে।
চার বছরের এক কন্যা সন্তানের জননী জিলহজ্জ্ব মুক্তা বলেন, আমাকে বের করে দেয়ার সমস্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি অন্য মেয়ের সাথে প্রেমে জড়িয়ে বিয়ে করার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
এখন আবার মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকেসহ আমার বাবা, মা, নানাকে আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে।
গৃহবধূর বৃদ্ধ নানা মনু মিয়া জানান, ওইদিন কি হয়েছে আমার জানা নেই আর আমি ছিলাম না তারপরও আমি আসামি হয়ে গেলাম।
এদিকে মামলার বাদী মমতাজ বেগম জানান, ছেলের বউয়ের বাবা শহীদুল্লাহ্ মাথা বাড়ি দিলে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। আমার বোন আমাকে দেখতে আসলেও তাকে মারধর করে। তবে কি দিয়ে বাড়ি দিয়েছে বলতে পারবো না। ছেলে ও তার বউয়ের সাথে কি নিয়ে দন্ধ চলছে তাও আমার জানা নেই।
কথা হয় প্রবাসী রায়হানের সাথে, তিনি জানান তার স্ত্রী ফেইসবুক আইডি থেকে অন্য ছেলের জন্য দোয়া চেয়ে পোস্ট করেন।
উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নে আরেকটি বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে রায়হানের বিরুদ্ধে। মুঠোফোনে তা স্বীকার করেছেন রায়হান।
এ ঘটনায় তদন্তকারী অফিসার উপপরিদর্শক প্রভাকর বড়ুয়া জানান, মামলার কাগজ আমার হাতে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে বিজ্ঞ আদালত প্রেরণ করা হবে।








