
বেড়াতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার পর আত্মগোপন করেন কুমিল্লার শরীফ


ঢাকার ধামরাইয়ে প্রেমিকা মমতাজকে বেড়াতে নিয়ে ভুট্টাক্ষেতের ভেতর হত্যার পর আত্মগোপন করেন প্রেমিক শরীফুল ইসলাম শরীফ। কুল্লা ইউনিয়নের কেলিয়া এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেতে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।
র্যাব-৪ এর সাভার (নবীনগর) ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। এর আগে সোমবার রাজধানীর কালশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরীফকে গ্রেফতার করে র্যাব-৪ এর সদস্যরা।
গ্রেফতারকৃত শরীফ কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন কাচারীকান্দি পাঁচকিত্তা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তবে তিনি বিগত ২০ বছর ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মকর্তা ও বিবাহিত।


হত্যার শিকার মমতাজ বেগম (৩৩) কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন রঘুনাথপুর গ্রামের হারেজ মিয়ার ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় মেয়ে। তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ এর সাভার (নবীনগর) ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান বলেন, মমতাজ ও শরীফ সম্পর্কে বিয়াই-বিয়াইন ও দেশের বাড়ি একই এলাকায়। এই সুবাদে ঘটনার এক মাস পূর্বে মমতাজকে আশুলিয়ায় এনে গার্মেন্টসে চাকরি দিয়ে দেন শরীফ। চাকরি দেওয়াসহ মমতাজকে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া করে দেন তিনি। সেখানে শরীফ নিয়মিত যাতায়াত করতেন। পরে উভয়ের মধ্যে আর্থিক লেনদেন ও আভ্যন্তরীণ মনোমালিন্যের জেরে মমতাজকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শরীফ।
পরে শরীফ তার পরিকল্পনা মতে মমতাজের ভাড়া বাসা পরিবর্তন করে নতুন স্থানে বাসা ভাড়া করে দেন। একই সঙ্গে মমতাজের নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল সিম দিয়ে শরীফ মমতাজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর শরীফ মমতাজকে হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপদ একটি জায়গা খুঁজতে থাকেন। ঘটনার আগের দিন ৭ জানুয়ারি শরীফ ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের কেলিয়া এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উত্তর পাশের ঘটনাস্থল ভুট্টাক্ষেত পরিদর্শন করে যান।
পর দিন ৮ জানুয়ারি বিকাল বেলা মমতাজকে বেড়ানোর কথা বলে ধামরাই এলাকায় নিয়ে যান। পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক তারা ঘুরতে ঘুরতে ঘটনাস্থল ভুট্টাক্ষেতের দিকে যান এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছলে শরীফ রশি দিয়ে প্রথমে মমতাজের গলায় পেঁচিয়ে ধরেন ও ওড়না দিয়ে মুখে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর শরীফ মমতাজের ব্যবহৃত মোবাইলটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সিএনবি নামক স্থানে ফেলে দিয়ে চলে যান এবং কাউকে কোনো কিছু বুঝতে না দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেন।
পরবর্তীতে র্যাব তার বিষয়ে অনুসন্ধান করছে বুঝতে পেরে শরীফ আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় শরীফ সিলেট, গাজীপুর, ঢাকার মালিবাগ, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় গোপন করে পালিয়ে থাকেন এবং তার নাম পরিবর্তন করে জোবায়ের নামে পরিচয় দেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি র্যাব-৪ রাজধানীর কালশী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের কেলিয়া এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে র্যাব-৪ এর একটি দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লাশটির পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য ও আসামি গ্রেফতারের জন্য ছায়া তদন্ত শুরু করে।







