
রোজা আত্মশুদ্ধি ধৈর্য সহিষ্ণুতা ও ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করে


যথাযথভাবে রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার অফুরন্ত রহমত লাভ করা যায়। রোজা রাখলে ব্যক্তির চরিত্র বিধ্বংসী কুপ্রবৃত্তি দমন হয়।
ব্যক্তির চক্ষু, কর্ণ, জিহ্বা ও লজ্জাস্থান প্রভৃতি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অতিরিক্ত চাহিদা অবদমিত হয়। রোজার মাধ্যমে ব্যক্তি কুপ্রবৃত্তি ও প্রলোভনের ওপর জয়ী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে সক্ষম হয়। অন্তরের যাবতীয় মলিনতা ও কুটিলতা দূর হয়।
রোজা মানুষকে যাবতীয় অবাঞ্ছিত কাজ থেকে বিরত থাকতে অভ্যস্ত করে তোলে। ক্ষুধার অনুভূতি ধনীর অন্তরে দরিদ্রের জন্য সহানুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং দরিদ্রকে সাহায্য করার মানসিকতা সৃষ্টি করে।


হজরত আবু হোরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় রোজা পালন করে, তার পূর্বাপর গুনাহগুলোকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’
রোজা বিশ্ব মুসলিম সমাজে সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার সৃষ্টি করে এবং আত্মশুদ্ধিসহ ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও নম্র স্বভাবের গুণে গুণান্বিত হওয়া যায়। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে- ‘জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে, তন্মধ্যে একটি দরজার নাম হচ্ছে ‘রাইয়্যান’। এটি দিয়ে একমাত্র রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও রোজার উপকারিতা রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন- নিয়ম মেনে রোজ পালন করলে রোজা বিভিন্ন রোগজীবাণু ধ্বংস ও শারীরিক সুস্থতা আনয়ন করে। একইসঙ্গে মানসিক প্রশান্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম এই রোজা এবং রোজাই মানুষকে আল্লাহ ও বান্দার অধিকার আদায়ে যোগ্য করে তোলে।
রোজ একটি ফরজ ইবাদত
পবিত্র আল কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে করে তোমরা মোত্তাকি হতে পার।’
ইসলামী শরিয়তে রোজার বিধান প্রবর্তনের পিছনে বহু হেকমত, উপকারিতা ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বিদ্যমান। বিশেষ করে রোজার মাধ্যমে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জিত হয় এবং রোজা মহাপ্রভুর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজার পরিপূর্ণ হক আদায় করে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে থাকেন।
রোজার ফজিলত ও প্রাপ্তি
মানবজাতির হেদায়াতের পথপ্রদর্শক আল কোরআন পবিত্র রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালা নাজিল করেছেন। পবিত্র কোরআনে সূরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘রমজান মাস হলো সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে আল কুরআন। যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন। আর সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটি পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।’
মাহে রমজান বরকতময় মাস। এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে এসেছে- ‘হজরত আবু হোরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাছে রমজান আসছে। এটি বরকতময় মাস। এ মাসে রোজা রাখা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর ফরজ করে দিয়েছেন। এ মাসে আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং দুষ্টু শয়তানকে বন্দী করা হয়। রমজান মাসে এমন একটি রাত আছে যার মর্যাদা হাজার মাস অপেক্ষা বেশি। যাকে সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়, সে প্রকৃত বঞ্চিত-(সুনানে নাসায়ী)।
E/N




























