
ছবি নিয়ে মর্গে নিখোঁজ মায়ের খোঁজে সোমা


সাত বছরের শিশু সোমা। কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে। তিন দিন ধরে সে তার মা আমৃতা বেগমের (৩০) খোঁজ পাচ্ছে না। আগুনে পুড়ে যাওয়া হাশেম ফুডসে বৃহস্পতিবার সকালে কাজ করতে গিয়েছিল তার মা। খালা রোজিনা বেগম আর খালু হাতেম আলীর হাত ধরে গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে এসেছিল নিখোঁজ মাকে খুঁজতে। তার হাতে ছিল মায়ের আইডি কার্ড।
কিন্তু কেউ তাকে আশার কথা শোনাতে পারেনি। শিশুটিও এখন বুঝে গেছে তার মা আর বেঁচে নেই। মৃত মায়ের মুখটিও এখন আর সে দেখতে পাবে না। ঐ কারখানা থেকে উদ্ধার হওয়া ৪৯টি মৃতদেহের মধ্যে হয়তো তার মায়ের লাশটিও আছে? কিন্তু লাশগুলো এতটাই পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে, দেখে শনাক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। কীভাবে মায়ের লাশ পাবে সোমা? সিআইডির ক্রাইম সিন শিশুটির কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা নিয়েছে। ম্যাচিং করার পর যদি কোনো লাশের সঙ্গে মেলে তাহলেই হয়ত মায়ের লাশটি পাবে সোমা।
সোমার মতো আরো ৪২ জন এসেছেন গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে। তারাও স্বজনের লাশ খুঁজছে। সবার কাছ থেকেই ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে। ম্যাচিং করার পরই লাশগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে মর্গে জানালেন সিআইডি ডিএনএ ল্যাবরেটরির পরীক্ষক মাসুদ রাব্বি।


তিনি বলেন, এটা করতে এক মাসও লেগে যেতে পারে। নিখোঁজ অমৃতার বোন রোজিনাও একই ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে রোজিনা বলেন, ‘আমি অন্য ভবনে ছিলাম। যে ভবনটিতে আগুন লেগেছে, ওটার চার তলায় অমৃতা কাজ করত। চার তলার গেটে কলাপসিবল গেট লাগানো থাকায় ওরা বেরুতে পারেনি। ওদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে। লাশটিও খুঁজে পাচ্ছি না। এখন আমি এই এতিম শিশুটিকে কী জবাব দেব?
সূত্র:দৈনিক ইওেফাক
H/N




























