
প্রেমের টানে বাংলাদেশে চীনা যুবক, বিয়ের পর দানা বাঁধছে নানা রহস্য!


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম। সেই প্রেমের টানে চীন থেকে মেহেরপুরে এসে এক তরুণীকে বিয়ে করার দাবি করেছেন এক চীনা নাগরিক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে চীনে বসবাসের পর আবার বাংলাদেশে ফেরার দাবি করলেও পুরো বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
চীনের নাগরিক ডং জে বর্তমানে নিজেকে মোহাম্মদ আলী নামে পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি মেহেরপুর পৌর এলাকার ঘোষপাড়ার বাসিন্দা কেয়া খাতুনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানান তারা।
কেয়া খাতুনের দাবি, ডং জে মেহেরপুরে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা প্রায় তিন মাস চীনে অবস্থান করেন এবং সম্প্রতি আবার মেহেরপুরে ফিরে আসেন।


তবে তাদের দেখানো বিয়ের কাগজপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নথিতে থাকা নোটারি ও আইনজীবীর নাম-সিল ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী রূতসোভা মণ্ডল জানান, গত তিন বছরে তিনি কোনো বিদেশি নাগরিকের বিয়ের হলফনামা সম্পাদন করেননি। তার নাম ও সিল জালিয়াতি করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় নিকাহ রেজিস্টার জানান, বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। তবে ওই দম্পতি চীনা দূতাবাসের কোনো বৈধ এনওসি দেখাতে পারেননি।
এদিকে, তারা দাবি করেছিলেন মেহেরপুরে আসার আগে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কোনো তথ্য পাওয়ার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, বিয়ে ও চীনে যাওয়ার বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিয়ের নথি, অভিবাসন নিয়ম ও অন্যান্য আইনি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলেও মত দিয়েছেন তারা।



























