
মতলবে চড়া দামে লিচু কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা
Link Copied Successfully!

মতলবে জমে উঠেছে রসালো ফল লিচুর বাজার। সপ্তাহখানেক আগে থেকে এ দুই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে এই রসালো ফল। বাজারে বর্তমানে একশ লিচু সর্বনিম্ন ৪০০ এবং সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এই ভরা মৌসুমে লিচুর দাম বেশি হওয়ায় লিচু কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। এদিকে স্থানীয়ভাবে লিচু উৎপাদন কম হওয়ায় বাহির থেকে লিচু কিনে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলার মতলব দক্ষিণে পৌর বাজার এলাকায়, নারায়নপুর এলাকায় নায়েরগাও বাজার এলাকায় এবং বিভিন্ন মার্কেটের সামনে লিচু গাছের সবুজ পাতা বিছিয়ে তার ওপর বিভিন্ন জাতের লিচু সাজিয়ে দোকান দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সেসব দোকানে ক্রেতা আগ্রহ নিয়ে কাছে গেলেও দাম শুনে লিচু না কিনেই ফিরছেন অনেকেই। উপজেলার মতলব উত্তরের ছেংগারচর বাজার, নতুন বাজার, সুজাতপুর বাজার এলাকায়
বিভিন্ন জাতের লিচু সাজিয়ে দোকান দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ছেংগারচর বাজারের লিচু ব্যবসায়ী ইব্রাহিম এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান আমাদের এলাকায় লিচুর উৎপাদন অনেক কম বাণিজ্যিকভাবে তেমন কোন বাগান নেই। যার কারণে মৌসুমের শুরুতেই লিচু শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বাহির থেকে লিচু সংগ্রহ করতে হয়। এতে খরচে অনেক বেশি পড়ে যায়। যার কারণে বেশি দামে লিচু বিক্রি করতে হয় আমাদের।
সুজাতপুর বাজার এলাকার আরো এক লিচু ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান আমরা নাটোর এলাকার বিভিন্ন বাগান থেকে ৩ হাজার আটশ থেকে ৪ হাজার দুইশ টাকা হাজার দাম দিয়ে লিচু কিনেছি, আর বিক্রয় করছি ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে। মতলব পৌর বাজারের লিচু ব্যবসায়ী মুছা জানান আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে লিচু কিনে নিয়ে আসি। বাজার যখন যে দাম যাই তখন সে দামে আমি লিচু বিক্রি করি। তবে এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে লিচুর উৎপাদন কম হয়েছে। যার কারণে বাজারে লিচুর দাম একটু বেশি।
লিচু কিনতে আসা আবু সাঈদ উজ্জ্বল নামে এক ক্রেতার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন গত বছর একশ লিচু ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দামে কিনেছি। এ বছর দাম বেড়ে তা ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এই দেশি ফল লিচু কিনে খেতে হিমশিম খাচ্ছি।
নাজিম উদ্দীন দর্জি নামে আরো এক ক্রেতা বলেন ছেংগারচর বাজারে লিচুর দাম অনেক বেশি। দেশে প্রতি বছর লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু তার পরেও লিচুর দাম বেশি কেনো। অনেক সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে বাজারে বেশি দামে এসব ফল বিক্রি করে থাকে। লিচুর দোকানের পাশে দাঁড়ানো মুসু নামে এক ভ্যানচালক জানান আমি সারাদিন ভ্যান চালিয়ে সামান্য কিছু রোজগার করে থাকি। এই সামান্য রোজগারের টাকা দিয়ে কি আর হয়। দুইদিন আগে এক লিচুর দোকানে লিচু কিনতে গিয়ে দাম শুনে চলে এসেছি। তারা একশ লিচুর দাম ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা চেয়েছে আমি কিনতে পারিনি। আমাদেরও এই সকল ফল কিনে খেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু এত দাম দিয়ে লিচু কিনে খাওয়া আমার সাধ্যের বাইরে।
ক্যাপশন :
মতলবে বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে লিচু কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।








