
একজন দক্ষ প্রশাসক প্রফেসর ড. এমরান কবীর চৌধুরী


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবীর চৌধুরী ৩১ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে যোগদান করেন। ২০০৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হলেও প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত দিক থেকে তেমন উন্নতি হয়নি। তিনি যোগদান করার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তখনকার পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সাথে যোগাযোগ করে এক বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এর জন্য ১৬৫৫.৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেন। এত স্বল্প সময়ে মেঘাপ্রকল্প অনুমোদন করা হয়। যা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে।


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স এক যুগ পার হলেও সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রফেসর ড. এমরান কবীর চৌধুরী তা অনুধাবন করে বিশ্ববিদ্যালয় এর চ্যান্সেলর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ মহোদয়ের সাথে সাক্ষাত করেন। যার ফলশ্রুতিতে এক জাকজমক সমাবর্তনের মাধ্যমে ২৭ জানুয়ারী ২০২০ তারিখে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবর্তনে প্রায় ৫৮০০ জনের শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি । এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের জন্য মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এমরান কবীর চৌধুরী স্যারের নাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে থাকবে।
উচ্চশিক্ষাকে বেগবান করার জন্য এম ফিল ও পি এইচ ডি অর্ডিন্যান্স প্রনয়ণ করেছেন। বর্তমানে এম ফিল ও পি এইচ ডি প্রোগ্রাম চালুকরণ প্রক্রিয়াধীন। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য আই কি এ সি এর মাধ্যমে প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ নিজে উপস্থিত থেকে সকলকে উৎসাহিত করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আইকিউএসি এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর আইনে সহপাঠ্যক্রমিক শিক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরো জোরদার করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর সেশনজট নিরসনের জন্য উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবীর চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরীকে নির্দেশ প্রদান করেন। উপাচার্য সেসব কোর্স শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে পরীক্ষা বিধি অনুসরণ করার জন্য অবহিত করেন এবং ভবিষৎ দিক নির্দেশন প্রদান করেন। যথাসময়ে পরীক্ষার উত্তরপত্র জমাদানকারী শিক্ষকদের পত্রের মাধ্যমে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
সার্টিফিকেট ও ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা শাখায় অতিরিক্ত একজন কম্পিউটার অপারেটর প্রদান করেন । নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট কার্যক্রমে আর কোন সমস্যা হবে না। পরীক্ষার পারিতোষিক বকেয়া থাকলে তিনি ২০১৯ -২০২০ অর্থবছরে ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা পরিশোধের নির্দেশ প্রদান করেন এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরে তা শূণ্যের কোঠায় নিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি জিনাত আমান পপুলার বিডিনিউজ ডটকম জানান, উপাচার্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে আন্তরিক। কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাদের প্রমোশনে বিধি জটিলতা দেখা দিলে তিনি কমিটি গঠন করে দেন এবং খুব স্বল্প সময়ে তাদের প্রমোশন দিয়ে দেন। বর্তমানে পরিচালক পদে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রদান করে কাজের গতিশীলতা আনবেন , এই আশা ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো জানান, যে উপাচার্য ১৩ জন আপগ্রেডেশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকুরীতে স্থায়ী করেছেন, যা কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক পদে ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজের গতিশীলতা আরো বৃদ্ধি করার আশা ব্যক্ত করেন।
প্রফেসার ড. এমরান কবীর চৌধুরীর মেয়াদ পূর্ন হতে আরো এক বছরের অধিককাল। তিনি তার পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করতে পারলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কে একটি উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করতে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং প্রফেসর ড. এমরান কবীর চৌধুরী লেখক হিসেবে যতটা সুনাম অর্জন করেছেন তেমনি একজন উপাচার্য হিসেবে তিনি সফল হবেন বলে সবার প্রত্যাশা।
উপাচার্য মহোদয় সকল কাজে সফলতার আরেকটি কারণ টিম ওয়ার্ক এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহন। সকল পরিস্থিতিতে এবং যেকোন কাজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন । বর্তমান উপাচার্য সফলতার সবটুকু সবাইকে নিয়ে উপভোগ করেন এবং ব্যর্থতার দায়ভার নিজের কাধে অকপটে তুলে নেন।
করোনাভাইরাস সময়কালেও প্রতিনিয়ত পরিবহন ক্রয় কমিটির সাথে যোগাযোগ করে নির্দেশনা দেন। এরই মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন পুলে ৩টি বাস, ১টি এ্যাম্বুলেন্স, ১টি পিকআপ এবং ১টি জিপ। প্রফেসর ড. এমরান কবীর চৌধুরী স্যারের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তোরত্তর সফলতা কামনা করেন সবাই।




























