
নতুন বছরে মুমিনের প্রত্যাশা যেমন হওয়া উচিত

১. সম্পদ : পবিত্র কোআনে খায়ের শব্দ দ্বারা সম্পদ বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে সে যদি ধন-সম্পদ রেখে যায়…।

৪. ভালো কাজ ও ইবাদত : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘(আমি) তাদেরকে ওহি প্রেরণ করেছিলাম ভালো কাজ করতে, নামাজ পড়তে এবং জাকাত দিতে; তারা আমারই ইবাদত করত।


কল্যাণ ও অকল্যাণের ব্যাপারে মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও ঘোষণাই চূড়ান্ত মানদণ্ড।
কোনো কল্যাণকর বিষয় অর্জনের পর তা হাতছাড়া করা মুমিনের জন্য কাম্য নয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সে নারীর মতো হয়ো না, যে তার সুতা মজবুত করে পাকানোর পর তার পাক খুলে নষ্ট করে দেয়।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯২)
কল্যাণ অর্জনে করণীয়
মুমিনরা আল্লাহর নির্দেশিত পথেই কল্যাণ অর্জন করে থাকে। আর তা হলো :
১. কল্যাণকর কাজ করা : কল্যাণকর কাজের মাধ্যমেই মুমিন কল্যাণ অর্জন করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ভালো কাজ করো, যেন সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭৭)
২. কল্যাণের প্রতি আহ্বান জানানো : মুমিন অন্যদেরও কল্যাণের প্রতি আহ্বান করে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হোক যারা কল্যাণের পথে আহ্বান জানাবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৪)
৩. কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতা করা : আল্লাহ কল্যাণের কাজে পরস্পরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘অতএব তোমরা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৪৮)
৪. কল্যাণের কাজে বিলম্ব না করা : আল্লাহ কল্যাণকর কাজগুলোতে অগ্রগামী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং মুমিন কল্যাণের কাজে বিলম্ব করবে না। ইবনে ওমর (রা.) বলতেন, যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবে, তখন সকালের জন্য অপেক্ষা কোরো না। আর যখন তোমার সকাল হয়, তখন সন্ধ্যার জন্য অপেক্ষা কোরো না। অসুস্থ হওয়ার আগে তোমার সুস্থতাকে আর তোমার মৃত্যুর জন্য জীবনকে কাজে লাগাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১৬)
৫. আত্মোন্নয়নে মনোযোগী হওয়া : মুমিন যখন আত্মোন্নয়নের চেষ্টা করতে থাকে এবং প্রতিদিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তার জীবন অর্থময় ও মূল্যবান হয়ে ওঠে। সাঈদ ইবনে জাবের (রহ.) বলেন, ‘মুমিনের প্রতিটি বেঁচে থাকার দিনই লাভজনক।’ (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম : ১/৩৮৬)
৬. জাতির উন্নয়নে সচেষ্ট হওয়া : মুমিন শুধু নিজের উন্নয়নে সচেষ্ট হবে না, বরং দেশ ও জাতির উন্নয়নেরও চেষ্টা করবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ১১)
৭. আল্লাহর কাছে দোয়া : মুমিন কল্যাণ প্রার্থনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। কেননা এটাই নববী শিক্ষা। মুসা (আ.) দোয়া করেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করবে আমি তার কাঙাল।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ২৪)
পরকালীন মুক্তিই চূড়ান্ত কল্যাণ
মুমিন পার্থিব ও পরকালীন উভয় জীবনের কল্যাণ অনুসন্ধান করবে, তবে পরকালীন কল্যাণকে প্রাধান্য দেবে। কেননা পরকালীন মুক্তিই চূড়ান্ত কল্যাণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ পরকালই উৎকৃষ্টতর এবং স্থায়ী।’ (সুরা : আলা, আয়াত : ১৬-১৭)
আল্লাহর সবার জন্য কল্যাণের ফায়সালা করুন। আমিন।
E/N




























